নামেই স্কুলের ‘সিক রুম’। সেই ঘরে এসি, সাজানো বিছানা, আলমারি... কী নেই। রয়েছে অ্যাটাচড বাথরুমও! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পরে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে খোঁজ মিলল এমনই এক রুমের। স্কুল-কলেজে এ ধরনের রুম কী কাজে লাগতে পারে, তা বুঝেই উঠতে পারছেন না বাংলার মানুষ। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলছেন, ‘এই স্কুলের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তা বলে স্কুলের মধ্যে রুমের খোঁজ! শুধু ভাবছি এখানকার পড়ুয়াদের মনে এগুলো কী প্রভাব ফেলছে।’
রাতভর তল্লাশি অভিযান শেষে কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি ওই স্কুলের তালাবন্ধ ঘর থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্কুলের হিসাবরক্ষক অভীক নাগকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোট চার জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর ভাই এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর নাম রয়েছে। রয়েছে গৌতম ঘোষদস্তিদার, অভীক কুমার নাগ এবং সায়ন নাগের নাম। টাকা উদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি কিছু নথি এবং কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের কথায়, ‘প্রচুর অভিযোগ স্কুলের বিরুদ্ধে। মাস্টারমশাই, দিদিমণি, অভিভাবক সকলে অভিযোগ করছেন। সরকার বদলের পরে আমরা তৎপর হয়েছি এ সব নিয়ে। একজন মাস্টারমশাই, একজন গেজেটেড অফিসারকে আমি এলাকার বিধায়ক হিসেবে মমোনীত করেছি, সব স্কুল নিয়ে ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করার জন্য। যাতে আমার কাছে এলাকার সব স্কুলের তথ্য থাকে। এই সব করতে গিয়েই সামনে এসেছে এই ঘটনা।’
এলাকার বিধায়কের স্কুলও এই স্কুলের পাশেই। এমন ঘটনায় হতবাক তিনিও। বলেন, ‘আমাদের ছেলেবেলার বহু স্মৃতি এই স্কুলের সঙ্গে। এই স্কুলের সামনে দিয়ে যাতায়াত করতাম। বহু পুরোনো স্কুল। সেই স্কুলের যা অবস্থা করেছে। সিক রুমে বিছানা, এসি লাগানো। অ্যাটাচ বাথরুম, আলমারি।’
স্কুলের প্রিন্সিপাল বিকাশচন্দ্র পালের দাবি, এই বিপুল টাকা স্কুলে ভর্তির, বই বিক্রির। এ নিয়ে অ্যাকাউন্ট সেকশন বলতে পারবে। আর এই সিক রুম? তার কোনও জবাব দিতে পারেননি তিনি।