পালাবদলের পরেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের থেকে ‘কাটমানি’ ফেরত পাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে টাকা ফেরত দিচ্ছে অনেকে। কেউ মুচলেকা জমা দিচ্ছেন টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। বৃহস্পতিবার সেই ঘটনা দেখা গেল কোচবিহার থেকে শুরু করে হাবরায়।
বুধবার শীতলখুচি ব্লকের বড়কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙামাটি গ্রামের ১৭৪ নম্বর বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় বর্মন উপভোক্তাদের হাতে টাকা ফিরিয়ে দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনার ৮৮ জন উপভোক্তার কাছ থেকে নেওয়া মোট প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা এ দিন ফেরত দেওয়া হয়। টাকা হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন উপভোক্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমিত্রা পাল বলেন, ‘আমি আবাস যোজনার ঘর পেয়েছিলাম। সেই সময়ে পঞ্চায়েত সদস্য পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। আজ সেই টাকা ফেরত পেয়েছি।’ পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় বর্মন বলেন, ‘বাসিন্দারা টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছিলেন। অঞ্চল নেতৃত্বের নির্দেশে টাকা তোলা হয়েছিল। এখন সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ ঘটনার পর বিজেপি যুব মোর্চার কোচবিহার জেলা কমিটির সম্পাদক রাহুল পাল বলেন, ‘সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ফলেই এই টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। মানুষ তাদের প্রাপ্য টাকা ফিরে পেয়েছেন।’
অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবরা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দীপক দের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। এমনকী তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। ভুক্তভোগীরা তৃণমূল কাউন্সিলারের কাছে টাকা চেয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তৃণমূল কাউন্সিলার দীপক নিজে সবার টাকা ফেরত দেওয়ার মুচলেকা পত্র দেন বাসিন্দাদের কাছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারও বাড়ির সামনে ড্রেন তৈরি, কারও দোকান তৈরি এরকম নানা কারণে ওই কাউন্সিলার টাকা তুলতেন বলে অভিযোগ।