কলকাতায় ফিরে কালীঘাটের বাড়ি হয়ে ভবানী ভবনে অভিষেক, শুরু জিজ্ঞাসাবাদ
eTV Bharat | ১১ জুন ২০২৬
কলকাতা, 11 জুন: দীর্ঘ জল্পনা কাটিয়ে অবশেষে ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরে প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে সামান্য সময় কাটানোর পর তিনি সোজা চলে যান ভবানী ভবনে। বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন সিআইডির আধিকারিকরা। বহুল আলোচিত এই মামলায় অভিষেকের ভূমিকা এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তদন্তকারীরা তাঁকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে দিল্লি থেকে আসা বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল তদন্তকারী সংস্থা। বিমানবন্দরে নামার পরই অভিষেককে ঘিরে শোনা যায় 'চোর' স্লোগান। তবে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি তৃণমূল সাংসদ। বিমানবন্দর থেকে তাঁর গাড়ি সরাসরি ভবানী ভবনে যাবে বলে মনে করা হলেও, পরে দেখা যায় অভিষেক প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান। সেখানে প্রায় 20-25 মিনিট কাটিয়ে হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান অভিষেক। এরপর রেজিস্টারে সই করে সিআইডি অফিসের ভেতরে ঢুকে যান অভিষেক।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডি'র নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলার সূত্র ধরে এর আগে একাধিকবার তাঁর শান্তিনিকেতন এবং কলকাতার বাসভবনে গিয়েছে সিআইডি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিক নোটিশও পাঠানো হয়। তবে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং দিল্লিতে সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজিরা দিতে পারেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি ছিল। এভাবে পরপর তিনবার তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন।
রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই মামলায় তাঁকে স্বস্তি দিয়ে আদালত বলেছে, আগামী 3 সপ্তাহ পর্যন্ত অভিষেককে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে আজ সন্ধে 6টার মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। তিনি অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেন।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই এই মামলায় বেশ কিছু নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সব তথ্যের ভিত্তিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিধানসভার নথিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়ম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ঘটনার সময়কার বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভবানী ভবনের বাইরে এদিন সকাল থেকেই রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বিপুল ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগমন ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, তদন্তের স্বার্থে সকলেরই আইনের সামনে জবাবদিহি করা উচিত। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইন মেনেই অভিষেক তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং সত্য সামনে আসবেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জিজ্ঞাসাবাদ মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে। তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান নথিভুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁকে আরও প্রশ্ন করার জন্য ফের তলব করতে পারেন বলেও সূত্রের ইঙ্গিত। এখন নজর ভবানী ভবনের বৈঠক কক্ষের দিকে। অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য উঠে আসে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।