• দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত কোন পরিচয়ে বিরোধী দলনেতা? প্রশ্ন হাইকোর্টের
    eTV Bharat | ১১ জুন ২০২৬
  • কলকাতা, 11 জুন: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি না-করলেও, বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগের 'বৈধতা' নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্য সরকার ও বিধানসভার স্পিকারকে আগামী 16 জুনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

    তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিধানসভার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ও গণতান্ত্রিক প্রথাকে উপেক্ষা করে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, যে রাজনৈতিক দল বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী শিবিরে রয়েছে, সেই দলের মনোনয়ন ও সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে একটি পৃথক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে, যা আইন ও বিধানসভার রীতির পরিপন্থী।

    মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সবসময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর 15 মে বিরোধী দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়েছিল। পরে 19 মে বিরোধী বিধায়কদের বৈঠকে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাতে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব 20 মে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বিধানসভায় পাঠানো হয়।

    আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, বিধানসভার ভিতরে কোনও গোষ্ঠী বা গ্রুপ নিজে থেকে বিরোধী দলনেতার দাবি করতে পারে না। যদি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনও দলে মিশে যান বা দলবদল করেন, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা। কিন্তু এখানে সেই ধরনের কোনও সংযুক্তি বা মার্জার হয়নি।

    তাঁর বক্তব্য, "মূল রাজনৈতিক দল যখন স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, তখন সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে একটি গোষ্ঠীকে বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। এতে দলের নির্বাচিত সদস্যদের মতামতকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে।" মামলাকারী পক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, বিরোধী দলনেতা ঘোষণার আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার কক্ষ দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি বৈঠকও করেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    কিন্তু এর মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীরা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান যে কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এরপর সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে শোভনদেব জানতে পারেন যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার।

    শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, যদি কোনও ব্যক্তিকে তাঁর রাজনৈতিক দল বহিষ্কার করে থাকে, তাহলে তিনি কোন রাজনৈতিক পরিচয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ? আদালতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল, "যাঁকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে, তিনি তো সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য নন বলে দাবি করা হচ্ছে। কারণ দল তাঁকে বহিষ্কার করেছে। সে ক্ষেত্রে স্পিকারের অবস্থান কী ?"

    রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতের কাছে সময় চেয়ে বলেন, বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে রাজ্য এবং স্পিকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়া হবে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে 16 জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ফলে 16 জুনের শুনানির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ- সকলেরই।
  • Link to this news (eTV Bharat)