আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে যখন একের পর এক উইকেট পতন আর তীব্র রাজনৈতিক ভাঙনের খেলা চলছে, ঠিক সেই কঠিন আবহেই সোশাল মিডিয়ায় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একটি ইঙ্গিতবাহী পোস্ট ঘিরে নতুন করে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের এই বিশ্বস্ত সৈনিকও কি তবে এবার ‘বেসুরো’দের দলে নাম লেখাতে চলেছেন, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বড় সমীকরণ— তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। যদিও এই রহস্যময় পোস্টের আসল কারণ নিয়ে মদন মিত্র নিজে এখনও পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
গতকাল কামারহাটির এই কালারফুল বিধায়ক নিজের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে ইংরাজিতে একটি বার্তা লেখেন, যার বাংলা করলে দাঁড়ায়— ‘নিজের অতীতকে আনইনস্টল করো, ভবিষ্যৎকে আপডেট করো।’ সোজা কথায়, পুরনো সমস্ত কিছু মুছে ফেলে নতুনকে স্বাগত জানানোর এক বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজ্য রাজনীতিতে যখন প্রতিনিয়ত নাটকীয় মোড় আসছে, তখন মদনের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার এমন পোস্ট কেন, তা নিয়েই এখন চারদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, হয়তো তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানোর পথেই হাঁটছেন মদন মিত্র। আর এই জল্পনা আরও হাওয়া পেয়েছে কারণ গতকালই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বুক ঠুকে ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের শিবিরের সংখ্যাটা ৫৮ থেকে বেড়ে একলাফে ৬৪ হয়ে গেছে। তবে কৌশলগত কারণে তিনি কারও নাম ভাঙেননি। অবশ্য সমীকরণের অন্য পিঠও রয়েছে, কারণ গতকালই যখন মমতা ব্যানার্জি দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন, সেই সময় তাঁর কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল পার্টি অফিসেই দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত ছিলেন খোদ মদন মিত্র।
নেত্রীর এই অত্যন্ত কঠিন সময়েও যাঁরা বুক চিতিয়ে লড়ছেন, তাঁদের মধ্যে কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কল্যাণ ব্যানার্জির পাশাপাশি মদন মিত্রের নামও প্রথম সারিতেই আসে। সম্প্রতি মমতার কালীঘাটের বাড়ির পাশের তৃণমূল পার্টি অফিসে যখন সিআইডি তল্লাশি অভিযান চালায়, তখন সেখানে সশরীরে পৌঁছে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে দেখা গিয়েছিল মদনকে। কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে এই তীব্র সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে আগামী দিনে মমতাপন্থী নেতাদের আসল অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। মদনের এই পোস্ট সেই ধোঁয়াশাকেই যেন আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল। তবে রাজনীতির চাণক্যদের অনেকের আবার ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে দল বাঁচাতে মমতা ব্যানার্জি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের হাত ধরতে পারেন বলে যে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে, মদনের পোস্টটি হয়তো সেই সম্ভাব্য জোটেরই কোনও আগাম ইঙ্গিত। এই চরম টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যান, এখন সেদিকেই চাতকের মতো তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহল।