সরকারি বাড়ি পেতে নিজের তথ্য যাচাই করুন নিজেই! সাধারণের সুবিধার্থে নয়া অ্যাপ আনল রাজ্য
প্রতিদিন | ১২ জুন ২০২৬
আর সমীক্ষকের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না! যে কোনও যোগ্য সুবিধাভোগী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা- গ্রামীণ প্রকল্পে বাড়ি পেতে নিজেই সমীক্ষক (সেল্ফ-সার্ভে )-র ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারবেন। নিজের তথ্য মূল্যায়ন করতে পারবেন নিজেই! গুগল প্লে স্টোর বা https://Pmayg.nic.in থেকে আবাস প্লাস অ্যাপ ডাউনলোড করে বাড়ি পেতে নিজের নানান প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে পারবেন। বিগত সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’তে এই সুবিধা ছিল না। এ দিকে সমীক্ষক দল এআই নির্ভর আবাস প্লাস ২০২৪ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে আধার ভিত্তিক ‘ফেস অথেন্টিকেশন’ ব্যবহার করে সমীক্ষা করছেন। সমগ্র রাজ্য জুড়ে প্রায় ৬ হাজার সমীক্ষক রয়েছেন।
গত ৪ জুন থেকে শুরু হওয়া এই আবাস প্রকল্পের সমীক্ষায় আগামী দু’মাসে ৪ আগস্ট-র মধ্যে কোন প্রত্যন্ত এলাকায় সমীক্ষক না যেতে পারলেও যোগ্য সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের আবেদন থেকে বঞ্চিত হবেন না। তৃণমূলের জমানায় এই রাজ্যে একাধিক জায়গায় সমীক্ষা না হওয়ার কারণে বা সমীক্ষক দল সেখানে না যাওয়ায় একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা বাড়ি পাওয়ার যোগ্য হয়েও প্রকল্পের সুবিধা পাননি। তাছাড়া রাজনৈতিক অশান্তির কারণেও সমীক্ষক দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় না পৌঁছতে পারলেও সেলফ সার্ভে বা নিজস্ব মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য সুবিধাভোগী এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। তবে স্ব-জরিপ বা নিজস্ব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে প্রশাসন একেবারে ১০০ শতাংশ যাচাই করবে আবেদনকারী যোগ্য সুবিধাভোগী কিনা।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সমীক্ষার আওতাতে থাকবেন গৃহহীন ব্যক্তি, কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবার, সরকারি স্তরে অভিযোগ করা প্লাটফর্ম থেকে আবেদনকারী এবং অন্যান্য যোগ্য গ্রামীণ পরিবার। এই যোগ্যতার মানদণ্ডে কাঁচা বাড়ির সংজ্ঞা বলতে যে বাড়ির কাঁচা দেওয়াল অর্থাৎ মাটি, বাঁশ, খড়, কাঁচা ইট দিয়ে তৈরি। আর কাঁচা ছাদ বলতে ঘাস, খড়, বাঁশ হাতে তৈরি টালি, প্লাস্টিক, শিট ইত্যাদি রয়েছে। তাঁরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্প না পাওয়ার অর্থাৎ বাদ দেওয়ার মানদণ্ডে রয়েছে পাকা বাড়ির মালিক, দু’টির বেশি ঘর, সরকারি কর্মচারী, উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, আয়কর পেশা করদাতা, নির্দিষ্ট যানবাহনের মালিক, অকৃষি উদ্যোগ বা বড় জমির মালিকরা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে প্রতি পরিবার পিছু ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মিলবে। তিনটি কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হবে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি ৬০ হাজার করে। তৃতীয় কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা। তবে বাড়ির সম্পূর্ণ হওয়ার পর। প্রত্যেকটি কিস্তির পরেই ছবি দিয়ে বাড়ির আপডেট জানাতে হবে প্রশাসনকে। যা নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও
গ্রামোন্নয়ন বিভাগ থেকে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক দেখতে পাবে।