• ‘রাতে মহিলাদের ডেকে মাছ ভাজানো হতো...’, দেগঙ্গায় তৃণমূল নেতার বাগানবাড়ি নিয়ে কী অভিযোগ?
    এই সময় | ১২ জুন ২০২৬
  • ৪ মে-র পর থেকে রাজ্যের নানা কোণে খোঁজ মিলছে তৃণমূল নেতাদের অগাধ সম্পত্তির। এ বার সেই তালিকায় যোগ হলো দেগঙ্গা। খোঁজ মিলল সেখানকার এক তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল বাগান বাড়ির। তার সঙ্গে উঠল বিস্ফোরক সব অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ওই বাগান বাড়িতে রাত-বিরেতে অসামাজিক কাজকর্ম চলত। এছাড়াও অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় বিরোধী দলের কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মাছের ভেরিতে লুটপাট, লক্ষাধিক টাকা তোলা আদায়ের মতো অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে আদালতের নির্দেশে দেগঙ্গা থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন রবিউল।

    রবিউল ইসলামের একাধিক বাড়ি রয়েছে। এ বার খোঁজ মিলল তাঁর বিলাসবহুল বাগান বাড়ির। বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত নেতার ভাইকে হাতের কাছে পেয়ে মারধর করেন ভুক্তভোগীরা। দখল করে জমি ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়। কৃষকদের অভিযোগ, জমি দখল করে বেআইনি ভাবে মাটি পাচার করে বিশাল আকারের ঝিল তৈরি হয়েছে। সেই ঝিলের পাশে শান বাঁধানো ঘাট রয়েছে। আর তার গা বেয়ে তৈরি করা হয়েছে রবিউলের সাধের বাগান বাড়ি। বাসিন্দাদের অভিযোগ অন্ধকার নামতেই বাগানবাড়িতে চলত মদের আসর, অসামাজিক কার্যকলাপ।

    স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আলি মণ্ডল বলেন, ‘এই জমিতে বর্গার রেকর্ড আছে। আমাদের পরিবার ৯০ বছর ধরে এই জমিতে চাষ করি। এখানে একটা বাঁধ ছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনের পরে বাঁধ ভেঙে মাটি বিক্রি করে দেয়। তার পর থেকে এই জমিতে চাষ করতে পারছি না।’

    আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা এমডি টনি বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘রবিউল ইসলাম আগে মাঠে শ্রমিকের কাজ করত। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে মাটির ব্যবসার শুরু। দো ফসলা জমির মাটি জোর করে কেটে নিত। ওর বিরুদ্ধে কথা বলা যেত না। এখন ১১০ বিঘা সম্পত্তি। এলাকায় মহিলাদের ডেকে এনে মাছ ভাজানো হতো।’

  • Link to this news (এই সময়)