• নীরবই মমতা, তৃণমূলের মেশার জল্পনা ওড়াল হাত
    এই সময় | ১২ জুন ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: হাতে মিশে যাবে ফুল? ‘ঘর ভাঙা’র ২৮ বছর পরে কংগ্রেসে ‘ঘরওয়াপসি’ হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

    এই জল্পনা যখন জোরদার রাজধানীতে, তখন বৃহস্পতিবার কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের তরফ থেকে দাবি করা হলো— এই গুঞ্জন সত্যি নয়। এ দিন দিল্লিতে ইন্দিরা ভবনে সব সাধারণ সম্পাদক এবং প্রদেশ সভাপতিদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠকে বসেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেখানে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী–সহ অনেকেই। ঘণ্টা তিনেকের বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব৷ দু’টি দলের সংযুক্তি সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন৷ আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছি আগেই৷’ তৃণমূলের নাম না করে বেণুগোপাল বলেন, ‘বিজেপি অন্য রাজনৈতিক দলের সাংসদদের পদত্যাগ করিয়ে নিজেদের দলে নিচ্ছে৷ নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে৷ এর বিরুদ্ধে আমরা আইনি এবং রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করব৷’

    কংগ্রেস সূত্রের দাবি, এ দিনের বৈঠকে তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার বিষয়টি আলোচ্যসূচির মধ্যেই ছি‍ল না। ফলে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেননি৷ বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমে শুভঙ্কর বলেন, ‘রাজনীতি হলো সম্ভাবনার শিল্প। ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। তবে একটি কথা আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, শেষ পর্যন্ত সবাইকেই কংগ্রেসের কাছে আসতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা থাকার কারণেই কংগ্রেস বাইরের জগতে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে এবং নিজের ভিতরেও তা মেনে চলে। আজ যদি দেশ ও সংবিধানকে বাঁচাতে চান, তবে রাহুল গান্ধীর পাশে সহযোগী হিসেবে আপনাকে হাঁটতে হবে। কে এল বা কে গেল— সেটা বড় কথা নয়, কংগ্রেসের দরজা খোলা থাকে, কারণ, এখান‍ে যোগ দেওয়া মানেই এক নতুন প্রাণশক্তি ও নবজীবনের সঞ্চার।’

    সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পরে যে ভাবে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জোড়াফুল নেত্রী অথবা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তবে কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ ইমরান মাসুদ সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, কংগ্রেস এবং তৃণমূল— দু’টি দল একত্রিত হলে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করা সম্ভব হবে৷ মাসুদের এই মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি কংগ্রেস নেতৃত্ব। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, ‘মমতাজি এবং ম্যাডাম সনিয়া গান্ধীর মধ্যে চল্লিশ বছরের পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে৷ বহু বিষয়ে ওঁদের কথা হয়েছে৷ তবে আপনারা (সংবাদমাধ্যম) যা বলছেন, সেই বিষয়ে কোনও কথা হয়নি৷’

    বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রদেশ সভাপতিদের নিয়ে যে বৈঠক ডাকা হয়েছিল, সেখানে মোদী সরকারের তথাকথিত জনবিরোধী নীতি, নিট প্রশ্ন ফাঁস, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি–সহ বহু বিষয় নিয়ে আলোচনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে৷ সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে রাহুল বলেছেন, ‘যদি কোনও দল আদর্শগত ভাবে ভেঙে না পড়ে থাকে, সেটা হলো কংগ্রেস৷ যদি এমন কোনও দল থাকে, যারা আরএসএস-বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে, তা হলে তারা হলো কংগ্রেস৷’

  • Link to this news (এই সময়)