এই সময়: দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০ জুন বাংলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। সরকারি ভাবে এবারই তা প্রথম পালন করা হবে। তারকেশ্বরে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। পরের দিন ‘যোগ দিবসে’ তিনি যে বাংলা থেকে সামিল হবেন, সে কথা প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। সরকারি ভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস সমস্ত সরকারি অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ থেকে রাজ্যের লোকভবনে (সাবেক রাজভবন) এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। যদিও সে সময়ে এই দিনটি পালনের বিরোধিতা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে তিনি ১ বৈশাখ, অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ‘বাংলা দিবস’ পালন করতে শুরু করেছিলেন। ২০২৬ বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
রাজ্যের মুখ্যসচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলাশাসককে চেয়ারপার্সন করে একটি কমিটি তৈরি করতে হবে। সেখানে পুলিশ সুপার, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জেলা স্কুল পরিদর্শকেরা থাকবেন সদস্য হিসাবে। সংশ্লিষ্ট বিধায়ক এবং সাংসদরাও ওই কমিটির সদস্য হবেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী এবং আলোচনাসভার মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং পরম্পরা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাগের ইতিহাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতনতা করাও এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রচার করতে পাঠাগার, সংগ্রহশালা বা সাংস্কৃতিক কোনও প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের মাধ্যমেও এই দিবস পালন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি পালন করা হবে রাজ্যের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সামিল হওয়ার কথা জানিয়ে জগন্নাথ বলেন, ‘২০ জুন প্রধানমন্ত্রী আসছেন। যেহেতু তারকেশ্বরের সম্মেলন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাগ নিয়ে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন, তাই তারকেশ্বরকে বেছে নিয়ে সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। অত্যন্ত সুচারুভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য, কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হলো, হিন্দু-বাঙালির শেষ হোমল্যান্ড হিসেবে ১৯৪৭-এ কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিয়েশন হয়েছিল— তা নিয়ে আলোচনা হবে।’