এই সময়, নয়াদিল্লি: দেশের সার্বিক বিকাশের স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে একজোট হলেন দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা৷ অনেক দিন বাদে, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে মিটিংয়ে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কর্নাটকের ডিকে শিবকুমার৷ অতীতে একাধিক বৈঠক বয়কট করেছেন পশ্চিমবঙ্গ ও কর্নাটকের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীরা৷ এ দিন অবশ্য দেখা গেল ভিন্ন ছবি।
তৃণমূল সরকারের আমলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশির ভাগ সময়েই নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক বয়কট করতেন৷ ২০২৪–এর জুলাইয়ে লাউডস্পিকার বন্ধের অভিযোগ তুলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়েও গিয়েছিলেন৷
বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাভাবিক ভাবেই সে পথে হাঁটেননি৷ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক বিকাশ ও উন্নয়নকে পাখির চোখ করে কেন্দ্র ও নীতি আয়োগের সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি৷ জোর দেন রাজ্যের শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, কর্মসংস্থানে৷ বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠকে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী বলেন, ‘এটা পশ্চিমবঙ্গ–কেন্দ্রিক বৈঠক ছিল না৷ সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ওঁর বক্তব্যে পরোক্ষ ভাবে কিছু ক্ষেত্রে সহায়তার প্রয়োজন জানিয়েছেন৷’
২০৪৭–এ ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ, তার আগে দেশকে ‘আত্মনির্ভর’ এবং ‘বিকশিত’ করে তোলার বার্তা দেন মোদী৷ মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে তাঁর আবেদন, সম্মিলিত উদ্যোগে দেশের ১০০টি জেলাকে বেছে নিয়ে কেন্দ্রীয় ‘অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট’ প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে। কৃষি ও শিল্পে অগ্রগতির পাশাপাশি জেলাগুলির সার্বিক উন্নয়নে জোর এবং কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিতে হবে৷ রাজ্যগুলিকে ‘এক জেলা এক পণ্য’–এ গুরুত্ব দিতে বলেন তিনি। এ বাদে প্রতিরক্ষার জন্য অস্ত্রশস্ত্র তৈরিকে ‘উদীয়মান ক্ষেত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ক্রমবর্ধমান সাইবার ক্রাইম এবং মাদক ব্যবহারে ইতি টানতে রাজ্যগুলির সম্মিলিত চেষ্টাতেও জোর দেন নমো৷
বৈঠকে বাংলার জন্য আলাদা ‘আর্থিক প্যাকেজ’ বা বিশেষ বরাদ্দ ঘোষিত না হলেও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের নীতিগত রোডম্যাপ পেয়েছে রাজ্য। বাণিজ্য ক্ষেত্রের কাজকর্ম সহজে করা ও জনগণের অভিযোগের দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে রাজ্যের লালফিতের ফাঁস কাটিয়ে নতুন বিনিয়োগ টানতে সুবিধে হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।