অধিকৃত কাশ্মীরে ফের নির্বিচারে গুলি পাকিস্তানি সেনার, হত ১৬
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
ইসলামাবাদ: অশান্তির আগুনে পুড়ছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর। বেসামাল অবস্থা পাকিস্তান সরকারের। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দমনে অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার। এবার অধিকৃত কাশ্মীরে কয়েক হাজার নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপর একে-৪৭ রাইফেল থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ। রক্তে লাল হয়ে উঠল ইদগা গ্রাউন্ড। বৃহস্পতিবারের এই নারকীয় দমননীতির শিকার ১৬ জন। জখম আরও ৩৭ বিক্ষোভকারী। জানা গিয়েছে, সাধ্যের মধ্যে গম, চাল, বিদ্যুৎ এবং মৌলিক অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন শুরু করেছে সাধারণ জনতা। গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভে উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর। গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। জখমের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০। নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে বিক্ষোভ দমনে পাক সরকারের এই কঠোর দমননীতিতে গোটা উপত্যকায় ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। পাক সরকারের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই হতাহতদের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে পথে নামেন সেখানকার বাসিন্দারা। রাওয়ালকোটে সমবেত হয়েছিলেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ। পাকিস্তানের বেআইনি দখলদারি ও জনস্বার্থ বিরোধী নীতির প্রতিবাদেও সরব হন তাঁরা। সেই আন্দোলনেই গুলি চালানো হয় বলে খবর। উর্দিধারীরাই সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে, এই স্লোগান এখন গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হিংসার প্রতিবাদে খাই গালা গ্রামে দোকানপাট বন্ধ রেখে মিছিল বের করা হয়। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক কর্মী সরদার আমন খান আন্দোলন জারি রাখার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অধিকারের জন্য লড়াই করলেই পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী বলে দাগিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের উপর এই দমননীতির তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে।