সুজয় সরকার, হিলি: ভিন্নধর্মী উপস্থাপন ও পরিবেশন গুণে নজর কাড়ল বালুরঘাটের অন্যতম নৃত্য প্রতিষ্ঠান‘কণৎনূপুরা’র বার্ষিক নৃত্যানুষ্ঠান। ওড়িশি নৃত্যে জগন্নাথের মঙ্গলাচরণে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর বসন্ত পল্লভী, বটু নৃত্য ও পটদীপ পল্লভী সহ একাধিক ওড়িশি পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। aশিবের তাণ্ডব ও পার্বতীর লাস্যের মাধ্যমে তালের উৎপত্তির শৈল্পিক উপস্থাপনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলের উদ্দেশে নৃত্যশ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন শিল্পীরা। রাজস্থানি লোকনৃত্য খুদে শিল্পীদের পরিবেশিত ‘একবার নাচো গো শ্যামা’ দর্শকদের কাছে বিশেষ প্রশংসিত হয়। পাশাপাশি খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজর কেড়েছে রূপকথা ঘোষ, ঐশানি পাল, নীলাঞ্জনা সাহা, আরশি মজুমদার, সংঘমিত্রা কিস্কু, প্রতীক্ষা লালা, প্রিয়াংশা চক্রবর্তী, ত্রিপর্ণা রায়।
এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেব কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ কে সামনে রেখে পরিবেশিত হয় ‘অব্যক্ত শকুন্তলা’। নৃত্যনাট্যে আধুনিক ব্যাখ্যায় ও ভাবনায় শৈল্পীক উপস্থাপন সমাজের নারীর জীবনসংগ্রামের প্রতিফলনকে তুলে ধরা হয়েছে। নৃত্যনাট্যে শকুন্তলার ভূমিকায় রূপার্জিতা চক্রবর্তী এবং দুষ্মন্তের ভূমিকায় কলকাতার বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী শুভঙ্কর সর্দারের পরিবেশন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠানে ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী সুমনজিৎ চক্রবর্তী, ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী রুদ্র মিশ্র এবং স্বর্ণাভ মিশ্র।
সংস্থার শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৃত্যে নজর কেড়েছেন কোয়েনা দাস, দেবাঞ্জনা ভৌমিক, সঙ্গীতা, সোহিনী, পরিণীতা, মৃন্ময়ী, প্রিয়াংশা, দেবজ্যোতি, সুইটি সহ একাধিক শিল্পী। সংস্থার কর্ণধার রূপার্জিতা চক্রবর্তী জানান, জেলার শিশু-কিশোরদের ভারতীয় সংস্কৃতি ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য। বর্তমান রিলস-নির্ভর সংস্কৃতি থেকে তাদের সুস্থ ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে এই প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।