চণ্ডীপুরে ৩০ বিঘা জমিতে ৮০০ কোটি টাকার বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ! উল্কার গতিতে উত্থান তৃণমূল নেতা মুকুল আলির
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
শ্রীকান্ত পড়্যা, চণ্ডীপুর: বাবা বেতগাছের ফল বিক্রি করতেন। ডেকোরেশনের কাজে লাগত ওই ফল। তাঁর ছেলে শেখ মুকুল আলি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের চণ্ডীপুর ব্লকের ওসমানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। তিনি চণ্ডীপুরের গোবর্ধনপুর মৌজায় দীঘাগামী জাতীয় সড়ক লাগোয়া ৩০ বিঘা জমির উপর ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ বেডের হসপিটাল তৈরি করছেন। মুকুল আলির এই উত্থান ঘিরে এলাকায় কৌতূহলের শেষ নেই। মাত্র ১০-১২ বছর পরচুলা ব্যবসা করে বেশ মুনাফা করেছেন। মেডিকেল কলেজের জন্য জমি জোগাড় থেকে নিজের ব্যবসায় প্রভাব খাটানোর জন্য পঞ্চায়েত প্রধান এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতার পদ ব্যবহার করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। গোবর্ধনপুর গ্রামে ১১৬বি জাতীয় সড়কে অবস্থিত টোলপ্লাজার ডান দিকে একেবারে জাতীয় সড়ক থেকে রেললাইন পর্যন্ত ৩০ বিঘা জমি ঘিরে পূর্ব মেদিনীপুরের দ্বিতীয় প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। বাজেট ৮০০ কোটি টাকা। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মুকুল আলির এই প্রজেক্ট নিয়ে সরগরম চণ্ডীপুর।
গোবর্ধনপুর গ্রাম থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সুলতানপুর বাজার। এখানেই শেখ মুকুল আলির বাড়ি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। দোতলা বাড়ি সংলগ্ন প্রায় ১০ বিঘা জমির উপর আনুমানিক তিন হাজার স্কোয়ার ফিটের অফিস বিল্ডিং যেন প্রাসাদ। চারতলা গোটা ভবনটাই দামি পাথরে তৈরি ও আসবাবে ঠাসা। এটাই মুকুল আলির পরচুলা ব্যবসার অফিসঘর। সিসি ক্যামেরায় মোড়া ভবনের ভিতর ও বাইরের অংশ। চারখানা বড় বড় মনিটর বসানো রয়েছে। সেখানেই গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটা কাচ ঘেরা এসি অফিসে বসেন মুকুল।
ভিসা নিয়ে জটিলতার জেরে প্রায় আড়াই বছর আগে চীনে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন শেখ মুকুল আলি। তখন এলাকায় বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল। ২০২১-’২২ সাল নাগাদ তিনি চণ্ডীপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হন। নিজের দাপটেই ২০২৩ সালে গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটে জেতার পর তিনি ওসমানপুর পঞ্চায়েত প্রধান হন। দল ও প্রধান পদকে কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ করার জন্য জমি কেনার কাজ শুরু করে দেন। জাতীয় সড়ক থেকে একটানা রেললাইন পর্যন্ত প্রায় ৩০ বিঘা জমি উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এখন সেই জায়গায় পাঁচতলার মেডিকেল কলেজ ভবন তৈরির কাজ চলছে। আগামী দু’ বছরের মধ্যে মেডিকেল কলেজ উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ওসমানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বলরাম দাস বলেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট ১৯টি আসন। আমরা বিজেপির থেকে ছ’জন নির্বাচিত হই। মুকুল আলি প্রধান হিসেবে আমাদের কোনো গুরুত্ব দিতেন না। নিজের বুথে কাজ করার সুযোগও পেতাম না। আমাদের সঙ্গে কখনও ভালো সম্পর্ক রাখতেন না।
স্থানীয়রা বলেন, মুকুল আলির বাবা অতীতে ওড়িশা থেকে বেতের ফল এনে বিক্রি করতেন। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার তৈরি হওয়ার তিন-চার বছর বাদে এই পরিবারের রকেট গতির আর্থিক উত্থান হয়। এদিন নিজের অফিসেই ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ মুকুল আলি। তিনি বলেন, গোবর্ধনপুর মৌজায় আমাদের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল (এসএমসি) থেকে অনুমোদন জোগাড় করা হয়েছে। তারপর ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা চীনে পরচুলা রপ্তানি করি। এটাই মূল জীবিকা।