রূপশ্রীর ফর্মে বদল, দিতে হবে এপিক নম্বর, ট্রাইবুনালে আবেদন, বিচারাধীন কি না জানাতে হবে
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: কোনো জনমুখী প্রকল্প বাতিল হবে না আগেই জানিয়ে দিয়েছিল নতুন সরকার। তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা রূপশ্রী প্রকল্পও সচল আছে। কিন্তু সরকার বদলের সঙ্গে বদলানো হয়েছে প্রকল্পের ফর্ম। সেই সঙ্গে পড়েছে ‘এসআইআরের প্রভাব’ও। এবার থেকে আবেদনকারীর কিংবা তাঁর পরিবারের এপিক নম্বর দিতেই হবে। এমনকী আবেদনকারী ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, বিচারাধীন রয়েছে কি না, তাও উল্লেখ করতে হবে লিখিতভাবে। প্রশাসন জানিয়েছে, এতে অনেক ভুয়ো আবেদন ঠেকানো যাবে। ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে গোটা রাজ্যেই চালু হয়েছে রূপশ্রী প্রকল্প। যে সব পরিবারের বার্ষিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম, সেই গরিব পরিবারের তরুণীরা বিয়ের অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পর প্রশাসনের তরফে তদন্ত হয়। সব ঠিক থাকলে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারপর পাত্রীর ব্যাংক ভেরিকেশন করে তাঁর অ্যাকাউন্টে সরাসরি এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেই আবেদন করা যায়। দ্বিতীয়বার বিয়ের ক্ষেত্রে আবেদন বেআইনি। পাত্রী ও পাত্র দু’জনকেই সরকারি হিসেব অনুযায়ী বিবাহযোগ্য হতে হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকারের আমলে এই প্রকল্পের ফর্ম বদল করে নতুন ফর্ম করা হয়েছে। প্রথমত আগে এই প্রকল্পের ফর্মে বিশ্ববাংলার লোগো ছিল। নতুন ফর্মে সরকারি অশোক স্তম্ভ রয়েছে। মূল বদল এসেছে এপিক নম্বরে। পুরনো ফর্মে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর দেওয়ার পরই তাঁর ব্যাংক ডিটেলস থাকত। নতুন ফর্মে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরের পরই এপিক নম্বর অর্থাৎ ভোটার কার্ডের নম্বর দেওয়ার জায়গা করা হয়েছে। প্রথমেই আবেদনকারীর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না তা লিখতে হচ্ছে। এপিক নম্বরের সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর, পার্ট নম্বরও দিচ্ছে। যদি কোনো আবেদনকারীর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, তাহলে বিকল্প হিসাবে পরের কলামে পরিবারের বাবা-মা বা ভাই-বোনের এপিক নম্বর দিতে হবে। এরপরও আরও দু’টি কলাম যুক্ত হয়েছে। ভোটার তালিকায় নতুন করে আবেদন করা হলে অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর দিতে বলা হয়েছে। এরপর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ সূচক প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘আবেদনকারী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন কি না এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন আছে কি না’। প্রশাসনের এক অফিসার বলেন, ভুয়ো আবেদন ঠেকাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পুরনো ফর্ম গ্রহণ করা হচ্ছে না। দপ্তর থেকে আবেদনকারীদের নতুন ফর্ম দেওয়া হচ্ছে।