আগামী ২-৩ দিনে রাজ্যের আরও কিছু অংশে বৃষ্টি, বিহারেও বর্ষাকালের সূচনা
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা বৃহস্পতিবার রাজ্যের উপর আরো কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। মৌসুমি অক্ষরেখা এদিন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের উপর দিয়ে বিস্তৃত ছিল। এর আগে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে রাজ্যের আরো কিছু অংশে বর্ষা প্রবেশ করবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। এদিন বিহারের কিছু অংশেও বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। দেশের অন্য প্রান্তে—কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার আরো কিছু অংশে এবং তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বাকি অংশেও বর্ষাকাল শুরু হয়েছে।
আপাতত উত্তরবঙ্গের বড়ো অংশ জুড়ে বর্ষাকাল প্রবেশ করলেও দক্ষিণবঙ্গে তা এখনো আসেনি। তবে জুন মাসের শুরু থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের অনেকগুলি জেলায় স্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টি হয়েছে। গড় বৃষ্টিপাতের থেকে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কম বৃষ্টি হলেও আবহাওয়াগত বিচারে তা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। তার থেকে কম হলে বলা হয়—‘ঘাটতি’। এই নিরিখে কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি আছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সবচেয়ে বেশি ৬৭ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। উত্তরবঙ্গে উত্তর দিনাজপুর ও কালিম্পং জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি আছে। সার্বিকভাবে রাজ্যে গড়ের থেকে ৫ শতাংশ কম ৬৪ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
জুন মাসের প্রথম কয়েকদিন রাজ্যে বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হয়েছিল। সেই কারণে কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হওয়ার জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে প্রাক্বর্ষার বৃষ্টির পরিমাণও বেড়েছে। আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি ও কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়া বইবে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বৃহস্পতিবারও সকাল থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের অনেক জেলায় বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়। কয়েকটি জেলায় ‘লাল’ ও ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়। এর মধ্যে দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান জেলার কিছু এলাকা ছিল। উত্তরবঙ্গের যেসব জায়গায় বর্ষা প্রবেশ করেছে সেখানে বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোচবিহারের মাথাভাঙায় সর্বাধিক ১৬০.৮ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। দার্জিলিং জেলার সেবকে হয়েছে ১১৩.২ মিমি বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বারাকপুরে সবচেয়ে বেশি ৫৪.৪ মিমি এবং তারপর হাওড়ার আমতায় ৫০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর। বুধবারের বৃষ্টির জন্য এদিন ভোরে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (২৩ ডিগ্রি) অনেকটা কমে যায়। এটা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.২ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৭ ডিগ্রি অবশ্য প্রায় স্বাভাবিক ছিল।