আলিপুরে জেলা পরিষদ ভবনে একাধিক খামতি, আগুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, কয়েক কোটির সামগ্রী পুড়ে খাক
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আলিপুরে জেলা পরিষদ বিল্ডিংয়ে আগুন কীভাবে লাগল, ২৪ ঘণ্টা বাদেও তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় যে একাধিক গলদ ছিল, তা প্রতিপদেই প্রকাশ পেয়েছে। এই বিল্ডিংয়ের কোনো ফ্লোরেই স্প্রিংকলারের ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো ফায়ার অ্যালার্ম। ফলে ছোটোখাটো আগুনও বড়ো আকার নিতে বেশি সময় নেয়নি। বুধবার আগুন লেগেছিল তৃতীয় তলে। সেখানেই প্রথম ধোঁয়া লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেই আগুন একে একে গ্রাস করে অন্যান্য তলকে। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে ন’তলা পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগ্নি নির্বাপণের ন্যূনতম ব্যবস্থা থাকলে, এতটা বিপর্যয় হত না। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে কত ক্ষতি হয়েছে, তার হিসাব কষছেন আধিকারিকরা। টাকার অঙ্কে তা কয়েক কোটি বলে অনুমান। প্রচুর কম্পিউটার, ইভিএম ভস্মীভূত হয়েছে। তাছাড়া ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের (এনআইসি) দামি মেশিন, রাউটার পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে অষ্টম ও নবম তলে। সেখানে আগুনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচুর সময় লেগেছে দমকল কর্মীদের। বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন সকালে ফরেন্সিক দল গিয়েছিল অকুস্থলে। তাঁরা বিভিন্ন তল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ঘটনাস্থলে আসেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ তল ঘুরে দেখেন। কীভাবে আগুন লাগল, কেনই বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, এসবের তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আপাতত ভবনের ভিতরে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। এই অফিসের পরিকাঠামোগত যে খামতি রয়েছে, তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগই নেননি কোনো জেলাশাসক। বিল্ডিংয়ে এমন কিছু তল রয়েছে, যেগুলি ভীষণ ঘিঞ্জি। অনেক জায়গাতেই প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। এটি সরকারি অফিস হওয়ায় একাধিক হকারের আনাগোনা রয়েছে। কেউ আবার এর মধ্যেই স্টোভ জ্বালিয়ে চা-টিফিন তৈরি করেন। এসব সুরক্ষার পরিপন্থী বলেই দাবি আধিকারিকদের। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের ঠিক আগেই অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রগুলি পরিবর্তন করা হয়েছিল। তার আগে বেশিরভাগই যন্ত্রই ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ। এর থেকেই স্পষ্ট যে, গাফিলতি ছিল প্রশাসনের।
তবে এসবের মধ্যেও স্বস্তি বোধ করছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের আধিকারিকরা। কারণ এই বিভাগটি অক্ষত রয়েছে। এটি রয়েছে দ্বিতীয় তলে। যেখানে আগুন স্পর্শ করতে পারেনি। ফলে জেলা পরিষদের অফিসের কোনো ফাইল বা নথির ক্ষতি হয়নি। এই বিল্ডিংয়ে যেসব অফিস আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলিকে অন্যত্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোটর ভেহিকেলস বিভাগ বন্ধ থাকায় ওই চত্বর ছিল শুনশান। -নিজস্ব চিত্রa