• অবশেষে সিআইডির জেরার মুখে অভিষেক
    বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সই জাল কাণ্ডে হাইকোর্টের গুঁতোয়  বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হাজিরা না দেওয়ার জন্য এদিন সকালে কলকাতা হাইকোর্টে অবশ্য মক্কেলের জন্য কড়া ধমক খেতে হয় অভিষেকের আইনজীবীকে। ভবানী ভবনে জেরা পর্বে তদন্তকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিষেক অনেক ক্ষেত্রেই আমতা আমতা করেছেন বলে সূত্রের খবর। অনেক প্রশ্নের যথাযোগ্য জবাব তাঁর কাছ থেকে মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিষেককে জেরা করছেন সিআইডি আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের গোট পর্বটির ভিডিওগ্রাফি করা হয়। আজ শুক্রবার ফের অভিষেককে হাজির হতে হবে বলে সূত্রের খবর। এরই সঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারপর্বে উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে বিধাননগর সাইবার থানায় যে মামলা দায়ের হয়েছিল, এদিনই তার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। 

    অপরদিকে বিধায়ক সই জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে সিআইডি তিনবার নোটিস পাঠায়। তিনি হাজিরা দেননি। উলটে রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এদিন সেই মামলার শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবীকে বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি হাজিরা এড়াচ্ছেন কেন?’ এরপরই তিনি সাফ বলেন, ‘কখন সিআইডির কাছে যাবেন, ১০ মিনিটের মধ্যে জানান।’ বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। আইনজীবী মারফত অভিষেক জানিয়ে দেন, এদিনই দিল্লি থেকে ফিরে তিনি সিআইডি’র কাছে হাজিরা দেবেন। এরপরই বিচারপতি চন্দ নির্দেশ দেন, এদিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। তবে হাজিরার নির্দেশের পাশাপাশি রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছে অভিষেককে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ২১ দিন গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।  তবে অসহযোগিতা করলে, রক্ষাকবচ খারিজ হতে পারে বলেও জানিয়েছে আদালত।   

     এরপর ৫.৪৭ মিনিট নাগাদ ডায়মন্ডহারবারের এমপি হাজির হন ভবানী ভবনে। রিসেপশনে সই করার পর তাঁকে ভবানী ভবনে চার তলায় কনফারেন্সে রুমে নিয়ে বসানো হয়। সেখানে তাঁকে জেরার জন্য হাজির হন সিআইডি’র ডিআইজি সহ সই কাণ্ডের তদন্তে গঠিত সিটের টিম। সূত্রের খবর, তাঁর কাছে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়, মিটিং কোথায়, কবে হয়েছিল। কালীঘাটে এই বৈঠক হয়েছিল জানার পর কোন কোন বিধায়ক এবং আর কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, এই প্রশ্ন করা হয় অভিষেককে। তিনি জানান, সকলে হাজির ছিলেন। সই নেওয়া হয় প্রত্যেকের। এরপরই বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো রেজল্যিশন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। অভিষেক তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, সব কিছু নিয়ম ও আইন মেনে হয়েছে। রেজল্যিশনও হয়েছিল। কিন্তু তার কপি অফিসে নেই কেন? এই প্রশ্নে অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, রেজল্যিশন হয়েছিল, এরকম তথ্য প্রমাণ তাঁরা পান নি। এরপর তদন্তকারীরা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল মোল্লার বয়ান তুলে ধরেন। ওই বিধায়ক সিআইডিকে জানিয়েছেন, বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না তিনি। সই করার প্রশ্নই ওঠে না। এই প্রশ্নের উত্তর অভিষেক এড়িয়ে গিয়েছেন বলে খবর। আর কোন পদাধিকার বলে তিনি বিধানসভায় চিঠি পাঠান, এই প্রশ্নে অভিষেকের দাবি, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে আইনত কোনো ভুল নেই। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর এই ধরনের চিঠি পাঠানোর ক্ষমতা নেই। সই জালিয়াতি করা হয়েছে, এমনটাও মানতে চাননি অভিষেক। যদিও তাঁর এই বক্তব্য মেনে নিতে রাজি নয় সিআইডি। তাঁর উত্তর যাচাই করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)