• অন্নপূর্ণা ফর্মের তথ্যভাণ্ডারেই সব প্রকল্প বঙ্গে, প্রথম পর্বে ৩ কোটির ডেটা
    বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা; লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বদলে অন্নপূর্ণা যোজনা। দেড় হাজারের বদলে তিন হাজার টাকা। এবং ১২ পাতার ফর্ম। এ নিয়ে প্রথমে ধন্দ, তারপর বিতর্ক। অথচ এই পর্বেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ১৬ দিনে জমা পড়েছে ৮৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ২১৩টি আবেদন। তার মধ্যে ৬১ লক্ষ আবেদনই অনলাইনে। কিন্তু এই সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটাই লুকিয়ে মুদ্রার অন্য পিঠে। আর তা হল, এই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমে আবেদনকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করছে রাজ্য সরকার। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালের নামও রাখা হয়েছে ‘ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন পোর্টাল’। ইউআরএল, socialregistry.wb.gov.in। এর নেপথ্য কারণ কী? একটাই—রাজ্যের নাগরিকদের স্বচ্ছ ডেটা ব্যাংক তৈরি। আগামী দিনে যাবতীয় সরকারি প্রকল্প পেতে রাজ্যবাসীর আর নতুন করে ঝামেলাই পোহাতে হবে না। এই তথ্যপঞ্জির উপর ভিত্তি করেই কেন্দ্র বা রাজ্যের প্রকল্পে আবেদনকারীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

    এপর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় যে ৮৯ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে, তাতেই রাজ্যের হাতে এসে গিয়েছে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৯৫ বা প্রায় তিন কোটি রাজ্যবাসীর তথ্য। সরকার মনে করছে, অন্নপূর্ণা যোজনায় যেহেতু রাজ্যের সিংহভাগ মহিলা আবেদন করবেন, সেক্ষেত্রে তাঁদের তো বটেই, সঙ্গে গোটা পরিবার তথ্য হাতে চলে আসবে। তাই তথ্যপঞ্জি বানানোর জন্য এটাই সবথেকে ভালো উপায়। পূর্বতন সরকারের আমলেই সমস্ত সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা প্রাপকের তথ্য ‘সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ নামাঙ্কিত পোর্টালে নিয়ে আসা হয়েছিল। এর ফলে প্রকৃত যে প্রাপকরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এই উদ্যোগের কথা সেভাবে পূর্বতন সরকার প্রকাশ্যে আনেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন এবং সঙ্গে পরিবারের সামগ্রিক তথ্য ‘সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ নামাঙ্কিত পোর্টালে নেওয়ার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনায় সিলমোহর পড়ল।

    ২৭ মে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ৩ জুন প্রথম দফায় যে ২৮ লক্ষকে অন্নপূর্ণার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সকলেই ছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক। রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, এই ২৮ লক্ষ আবেদনকারীর পরিবারের প্রায় ৯৩ লক্ষ সদস্যের তথ্য জমা পড়েছে। আর অনলাইনে ৬২ লক্ষ আবেদনকারীর পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ১ কোটি ৯৯ লক্ষ ৪১ হাজার ৪২৮। অন্নপূর্ণার জন্য আবেদনের সময়সীমা অবশ্য তিন মাস। সেটা রাজ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে। ফলে রাজ্যবাসী দ্রুত ফর্ম পূরণ করবে। আর তথ্যপঞ্জি তৈরির কাজও এগিয়ে যাবে। অন্নপূর্ণার দায়িত্বে থাকা সমাজ কল্যাণ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মালতী রাভা রায়ও সাধারণ মানুষকে এই ফর্ম পূরণের আর্জি জানিয়েছেন। তাঁর আশ্বাস, এতে বাংলার প্রত্যেক নাগরিকের উপকার হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)