• রাজ্যজুড়ে স্কুল সহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের নির্দেশ নবান্নের
    বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২০ জুন সারা রাজ্যে মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। তারকেশ্বর মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলা সদরের পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি-পোষিত ও সরকারি-সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক, আইটিআই এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ জারি করল নবান্ন। 

    কেন এই দিনটি বর্তমান সরকারের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ? প্রশাসনিক মহলের মতে, ভারত সরকার ও বিজেপি আগাগোড়াই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের পক্ষে ছিল। তাদের যুক্তি, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার ফলে বাংলার বিভাজন ঘটে এবং ভারতের মধ্যে পৃথক ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামক রাজ্যটি সৃষ্টি সম্ভব হয়। এই দিনটিকে তারা পশ্চিমবঙ্গের জন্মলগ্ন হিসাবে বিবেচনা করে। তবে এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে মানতে নারাজ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। পূর্বতন সরকার ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন শুরু করেছিল। তবে সেই সিদ্ধান্তের একবছরের মাথায় রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থেকেছে রাজ্য। বিজেপি সরকার এসেই তাঁদের মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি ছিল ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত। 

    তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাংলার বিভাজন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গঠন এবং দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার অবদান সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করার লক্ষ্যেই পদক্ষেপ করতে হবে। রাজ্যের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, ভ্রাতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং বাংলার ঐতিহ্যের প্রতি গর্ববোধ আরো শক্তিশালী হবে। আর সেই কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সংক্রান্ত অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। 

    স্কুল-কলেজে কী কী কর্মসূচি হবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের নির্দেশিকায়। বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রগঠনের প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন। স্কুল ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রবন্ধ রচনা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। নিতে হবে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক শিক্ষামূলক পুস্তিকা প্রকাশের উদ্যোগ। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বার্ষিক স্মারক বক্তৃতা চালু করতে হবে। 

    প্রতিটি জেলা সদরেও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করা হবে। কর্মসূচি রূপায়ণের লক্ষ্যে জেলাশাসকের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তার সদস্য হিসাবে থাকবেন পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদেরও অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)