ফলতার ত্রাস জাহাঙ্গির খানকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
সংবাদদাতা, বজবজ: ‘ওই যে চোরটা যাচ্ছে’— বৃহস্পতিবার বিকালে প্রকাশ্য রাস্তায় এই ভাষাতেই বিদ্ধ হল ফলতার ত্রাস তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে গলার শির ফুলিয়ে তাকে চোর বলে সম্বোধন করলেন এলাকার মানুষ। এদিন কড়া প্রহরায় ধৃত জাহাঙ্গিরকে নিয়ে এসে বেশ কয়েকটি ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে ফলতা থানার পুলিশ। সেই সময় হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরে ছিল জাহাঙ্গির। এলাকার মানুষ আপনি সম্বোধন ছেড়ে একেবারে তুই-তোকারির পর্যায়ে নিয়ে আসে তৃণমূলের এই ‘বাদশা’কে। এক মহিলা তো পুলিশি ঘেরাটোপ ডিঙিয়ে জাহাঙ্গিরের সামনে গিয়ে বলেন, ‘কি রে, মহিলাদের সম্ভ্রম নষ্ট করবি বলেছিলি না? এখন কী হল? ইচ্ছে করছে তোর মুখটা নোড়া দিয়ে থেঁতলে দিই। গত দশ বছর ধরে কত চুরি করেছিস, কতজন মহিলাকে অসম্মান করেছিস খেয়াল আছে? অভিশাপ দিলাম, তোর জীবন নরক হয়ে যাবে।’
ঘটনাস্থল ফলতা থানা থেকে ৫০০ মিটার দূরে হাটের কাছে। ভোটের আগে তার ধারেকাছে আসতে পারতেন না সাধারণ মানুষ, কথা বলার সাহস ছিল না কারও। সেই জাহাঙ্গিরকে চোর সম্বোধন করলেও মুখ বুজে হজম করতে হয়েছে তাকে। এসব শুনে তার চোখে-মুখে ছিল অসহায় অভিব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন বেলা সাড়ে ৩টের সময় বিভিন্ন ঘটনা পুনর্নির্মাণের জন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত জাহাঙ্গিরকে। তাকে ঘিরে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর অভিযোগে দু’জন আত্মঘাতী হয়েছিলেন। তাঁদের বাড়ি নিয়ে যাওয়া জাহাঙ্গিরকে।
এদিন সরারহাটে যখন তাকে হাটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ভিড় জমে যায়। অনেকেই ‘চোর চোর’ বলে সম্বোধন করেন তাকে। ভিড়ের মধ্যে থেকে টিপ্পনিও কাটেন কেউ কেউ। জওয়ানরা তাঁদের সরিয়ে দেন। এরপর জাহাঙ্গিরকে গাড়িতে তুলে ডুবোপাড়ায় তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তালা খুলে ভিতরে চলে তল্লাশি। অনেকেই বলছেন, এক সময় ওয়াই ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পেত জাহাঙ্গির। এখন আর সরকারি নিরাপত্তা নেই। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী আর পুলিশের ঘেরাটোপেই থাকতে হচ্ছে কুকীর্তির নায়ককে। একেই বলে কপাল!