পিঠে নয়, রাত হলেই মাছ ভাজার নাম করে মহিলাদের ডাকা হত দেগঙ্গার বাগানবাড়িতে
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানকে ঘিরে ওঠা ‘পিঠে ভাজা’র অভিযোগ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক অভিধানের অংশ। সেই বিতর্ক স্তিমিত হওয়ার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় ভেসে উঠছে আর এক ‘ভাজা’র গল্প। তবে এখানে পিঠে নয়, মাছ! এক্ষেত্রে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে দেগঙ্গার ‘ত্রাস’ তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম। তিনি দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ। ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে এখন পুলিশ হেপাজতে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পরেই যেন খুলতে শুরু করেছে বহুদিনের চাপা গল্পের ঝাঁপি!
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির মহিলাদের মাছ কোটা, ভাজা কিংবা রান্নার কাজের নাম করে সন্ধ্যায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হত রবিউলের দেগঙ্গার হাঁসিয়ার বাগানবাড়িতে। কিন্তু, সেই ডাকের আড়ালে থাকত অন্য উদ্দেশ্য। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সন্ধ্যা নামলেই বদলে যেত বাগানবাড়ির চেহারা। দিনের নির্জনতা সরিয়ে সেখানে বাড়তে শুরু করত লোকজনের আনাগোনা। রাত যত গভীর হত, ততই জমে উঠত আসর। অভিযোগ, সেখানে নিয়মিত মদের আসর বসত। মাছ ভাজার নাম করে ডেকে আনা মহিলাদের ব্যবহার করে অসামাজিক কার্যকলাপ চালানো হত বলেও দাবি এলাকাবাসীর একাংশের। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে মধুচক্র পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন। এলাকার মানুষের বক্তব্য, সন্দেশখালিতে যেমন ‘পিঠে ভাজা’ শব্দবন্ধ এক সময় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছিল, দেগঙ্গায় তেমনই এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘মাছ ভাজা’। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে বাজারের মোড়— সর্বত্র ঘুরছে সেই অভিযোগ।
যে বাগানবাড়িকে ঘিরে এত বিতর্ক, সেটিও নাকি তৈরি হয়েছে অভিযোগের ভিতের উপর! স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির চরিত্র বদলে এবং অবৈধভাবে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে এই বিশালাকৃতির ঝিল। সেই ঝিলের ধারে শান বাঁধানো ঘাট। তার গা ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে রবিউলের বিলাসবহুল বাগানবাড়ি। বহু বছর ধরে সেটি এলাকার কৌতূহলের কেন্দ্র ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। রবিউলকে গ্রেপ্তারের পর এখন সামনে আসছে একের পর এক অভিযোগ। সেই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি শব্দ— ‘মাছ ভাজা’। স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মণ্ডল ও টনি বিশ্বাস বলেন, আগে রবিউল দিনমজুরের কাজ করতেন। কিন্তু তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি ১০০ বিঘারও বেশি জমির মালিক। রাতে মাছ ভাজার নাম করে প্রাসাদোপম বাড়িতে ডেকে আনা হত মহিলাদের। আর চলত মদের আসর-ফূর্তি। রবিউলের ভয়ে মুখ খুলতেন না কেউই।