বেলঘরিয়ায় রেল উড়ালপুলের সংস্কার থমকে, বাড়ছে দুর্ভোগ
বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সংস্কারের কাজ চলার কারণে প্রায় ছ’মাস বন্ধ বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুল। সে কারণে তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে মানুষকে। গার্ডার পরিবর্তন সহ ফ্লাইওভার সংস্কারের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। কিন্তু জানা গিয়েছে, বাকি দু’দিকের ফ্লাইওভারের গার্ডার সংক্রান্ত কাজ এখনও শুরুই হয়নি। পূর্তদপ্তর বহু আগে পুরসভাকে উড়ালপুলের নীচের অংশে চিহ্নিত করা প্রায় ৪৮টি দোকান সরানোর জন্য চিঠি দিয়েছিল। সে কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ওই দোকানগুলি না সরালে সংস্কারের কাজ সম্ভব নয়। দোকান সরানোর পর সে কাজ শুরুর হবে। তা শেষ করতে কমকরে দু’মাস লাগবে। ফলে পুজোর আগে এই কাজ আদৌ শেষ হবে কি না তা নিয়ে উঠছে বড়োসড়ো প্রশ্ন। পূর্তদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি দোকান সরানোর জন্য পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শনিবার পুরসভা, মহকুমা প্রশাসন, পূর্তদপ্তর, পুলিশ সহ একাধিক দপ্তরের কর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। চিহ্নিত দোকানের তালিকা পুরসভাকে দেওয়া হয়েছে। দোকান সরানোর কাজ শুরু হলে ব্রিজ সংস্কারের কাজ পূর্তদপ্তর শুরু করবে। পুজোর আগে কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে কাজ কবে থেকে শুরু হবে তার উপর।
বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুল উত্তর শহরতলির অন্যতম লাইফলাইন। গার্ডারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারী গাড়ি গেলেই কাঁপত। ক্রমশ উড়ালপুলটি মরণফাঁদ হিসেবে দেখা দিচ্ছিল। সেটির স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর গতবছর দুর্গাপুজোর আগে সংস্কারের কাজ শুরু নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু পুজোর সময় ফ্লাইওভার বন্ধ হলে মানুষের দুর্ভোগ হবে বলে পুরসভা অনুমতি দেয়নি। তারপর ডিসেম্বরে ফের স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়। বলা হয়, উড়ালপুলের একদিকের পাঁচটি গার্ডার ও অন্যদিকের সাতটি গার্ডার দ্রুত বদলাতে হবে। এছাড়া রেললাইনের উপরে থাকা উড়ালপুলের অংশে গার্ডার পরিবর্তন সহ পুরো কাঠামো বদলের প্রয়োজন রয়েছে। সংস্কারে জন্য পূর্তদপ্তর প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করে। ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে উড়ালপুল সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে রেল তাদের অংশে মেরামতির কাজ শুরু করে। ওই কাজ প্রায় শেষের পথে। কিন্তু উড়ালপুলের দু’দিকে পূর্তদপ্তরের অংশে ১৪টি গার্ডার সংস্কারের প্রয়োজন। ওই কাজ করতে হলে পিলার লাগোয়া দোকান তুলে লোহার কাঠামো বানাতে হবে। কিন্তু এখনও দোকান তোলার নোটিস দেওয়া হয়নি। তবে গত ১৫দিন দফায় দফায় বৈঠক ও প্রশাসনিক তৎপরতা চলছে। এখন জটিলতা রয়েছে শুধুমাত্র দোকান সরানো নিয়ে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্তদপ্তরের আধিকারিক বলেন, মহকুমা প্রশাসন ও পুরসভাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা জায়গা পেলেই কাজ শুরু করব। কিন্তু এই জটিলতায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। বিরাটি এবং বেলঘরিয়ার মধ্যে বিকল্প পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আট ও দুই নম্বর রেলগেটে যানজট মারাত্মক আকার নিচ্ছে। বহু সময় রেলগেট বন্ধ না হওয়ায় ট্রেন আটকে থাকছে। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, ‘উড়ালপুলের নীচে যেসব দোকান সরাতে হবে তা চিহ্নিত হয়েছে। পূর্তদপ্তরের জায়গায় থাকা ওইসব দোকান সরাতে নোটিস তো পূর্তদপ্তরকে দিতে হয়। পুরসভা কেন নোটিস দেবে তা তো বুঝতে পারছি না। প্রয়োজনে প্রশাসনিকস্তরে আলোচনা করা হবে। তাছাড়া যেসব দোকান তোলা হবে তাদের রুজি-রুটির বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনার দাবি উঠেছে।’