• যান্ত্রিক ত্রুটির দিকেই ইঙ্গিত পাইলটদের, বছর ঘুরলেও মিলল না আমেদাবাদ ক্র্যাশের তদন্ত-রিপোর্ট
    এই সময় | ১২ জুন ২০২৬
  • সুনন্দ ঘোষ

    দুর্ঘটনার এক মাসের মাথায়, গত বছরের ১২ জুলাই এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার যে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করেছিল, তা নিয়ে বিস্তর হইচই হয়। কারণ, সেখানে কম্যান্ডার পাইলট সুমিত সাবরেওয়ালের ভুলের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল।

    আর তার পাল্টা পাইলটদের দাবি, বোয়িংয়ের যান্ত্রিক ত্রুটি ঢাকতেই স্কেপগোট করা হচ্ছে পাইলটকে। ২০২৫–এর ১২ জুন, ঠিক এক বছর আগে আমেদাবাদ থেকে টেক–অফ করে এয়ার ইন্ডিয়ার যে ড্রিমলাইনার ভেঙে পড়ে মারা গিয়েছিলেন ২৬০ জন, তার ‘থ্রটল কন্ট্রোল ইউনিট’ কেন দু’বার বদল করতে হয়েছিল, তা নিয়ে আজও প্রশ্ন তুলছেন পাইলটরা। তাঁদের ইঙ্গিত বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির দিকেই। কারণ, ককপিটের দু’টি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ ‘থ্রটল কন্ট্রোল ইউনিট’–এরই অ​ংশ।

    এএআইবি–র প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল ককপিটের ওই দু’টি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ আচমকাই ‘রান’ থেকে ‘কাট–অফ’ পজ়িশনে চলে যায়। যার ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সাপ্লাই বন্ধ হয়ে ভেঙে পড়ে বিমান। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ডি–কোড করে তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, কো–পাইলট ক্লাইভ কুন্দর সুমিতকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি কেন এটা (সুইচ রান থেকে কাট–অফ) করলেন?’ তাতে সুমিত বলেছিলেন, ‘আমি তো করিনি!’

    তবে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ আজও অজানা। দুর্ঘটনার পরে কেন্দ্র জানিয়েছিল, এক বছরের মধ্যে ফাইনাল রিপোর্ট বেরোবে। আজ, শুক্রবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট পেশ করার কথা ছিল তদন্তকারীদের। কিন্তু, বিমান পরিবহণের সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় তিন মাস পিছিয়ে যেতে পারে সেই সময়সীমা। কারণ? জটিল টেকনিক্যাল অ্যানালিসিসের মধ্যে দিয়ে নাকি যেতে হচ্ছে তদন্তকারীদের। এ ছাড়াও আমেরিকার বোয়িং সংস্থার সেই বিমানের ইঞ্জিনের খুঁটিনাটি পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি। তা আমেরিকাতেই চলছে।

    ভারতের সিনিয়র পাইলটরা অবশ্য ফাইনাল রিপোর্ট পেশের দেরি নিয়ে অবাক নন। তাঁরা তুলে আনছেন, চার বছর আগের চিনের একটি বিমান দুর্ঘটনার কথা। ২০২২–এর ২১ মার্চ চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের বিমান কুনমিং থেকে গুয়াংঝাওয়ের পথে ৩৫ হাজার ফুট থেকে একেবারে মুখ নীচু করে ভেঙে পড়েছিল পাহাড়ের কোলে। মারা গিয়েছিলেন ১৩২ জন। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ক্রু, বিমান, তার রক্ষণাবেক্ষণ, আবহাওয়া — কোনও কিছুতেই কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। তা হলে কেন ভেঙে পড়েছিল সেই বিমান? আজও তার ফাইনাল রিপোর্ট সামনে আসেনি। সেটি ছিল বোয়িং ৭৩৭ বিমান।

    উঠে আসছে, ১৯৯৯–এর ৩১ অক্টোবর অতলান্তিকে ইজিপ্ট এয়ারের ভেঙে পড়ার প্রসঙ্গও। ২১৭ জন মারা যান। সেটিও ছিল বোয়িং ৭৬৭। সেখানেও আমেরিকা তদন্তে নেমে জানিয়েছিল, পাইলটদের ত্রুটির জন্যই দুর্ঘটনা। যা মানতে চায়নি ইজিপ্ট সরকার। পরে তারা নতুন করে তদন্তে নেমে যান্ত্রিক ত্রুটিকেই দায়ী করেছিল।

    আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে খুব তাড়াতাড়ি নাকি তদন্তে দেরির কারণ জানিয়ে একটি স্টেটাস রিপোর্ট সামনে আনবে এএআইবি। উল্লেখ্য, এই তদন্তে এএআইবি–র সঙ্গে রয়েছে আমেরিকার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড, বোয়িং এবং ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা জি ই এরোস্পেসও।

    পাইলটদের অভিযোগ, সুমিতকে দোষী প্রমাণ করে রিপোর্ট দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। সে দিন বিমানে ‘ইলেকট্রিক ফেলিয়োর’ হয়েছিল বলে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এই আবহে বোয়িংয়ের যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য এতবড় ঘটনা ঘটেছিল, সেটা প্রমানিত হলে চাপ বাড়বে আমেরিকারই। বিস্তর চাপে পড়ে গিয়েছে এএআইবি।

  • Link to this news (এই সময়)