• ‘দিদির পাশে আছি’, দাবি করেও ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে সই? স্পিকারের অফিসে জমা পড়া তৃণমূল সাংসদদের চিঠি প্রকাশ্যে
    এই সময় | ১২ জুন ২০২৬
  • বঙ্গ রাজনীতিতে গত একসপ্তাহে চলেছে পাটিগণিতের প্রবল অঙ্ক কষা। হারাধনের কয়টি ছেলের মধ্যে রইল বাকি কয়টি। পরিষদীয় দলের বৈপ্লবিক ভাঙনের পরেই অপেক্ষা ছিল সংসদীয় দলে ধস নামার। জাতীয় রাজনীতির নিম্নকক্ষে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘর ভাঙছেন কারা, সেই নিয়ে তুঙ্গে ছিল তরজা। কিছু নাম স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ্যে আসলেও রাজনীতির জটিল সমীকরণের পিছনে অনেকের নামেই ছিল ধোঁয়াশা। কিন্তু এ বার সামনে এল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অফিসে জমা পড়া চিঠি এ বার এল সামনে। তাতেই স্পষ্ট কারা সই করেছিলেন সেই চিঠিতে।

    সূত্রের খবর, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সেই চিঠি লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ঘরে জমা পড়েছিল। সেই চিঠিতে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। সে দিন কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন, তিনি লোকসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতক। সেই ক্ষমতাবলে বাকি সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে।

    সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চিঠিতে প্রত্যাশিত মতোই স্বাক্ষর রয়েছে— কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদারের মতো তৃণমূল সাংসদদের। এ ছাড়াও সই করেছেন যাঁরা, তারা হলেন—

    ডা. শর্মিলা সরকার

    প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়

    জগদীশ বর্মা বসুনিয়া

    অসিত কুমার মাল

    অরূপ চক্রবর্তী

    রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

    সায়নী ঘোষ

    খলিলুর রহমান

    আবু তাহের খান

    ইউসুফ পাঠান

    মিতালি বাগ

    মালা রায়

    কালীপদ সোরেন

    দীপক অধিকারী (দেব)

    জুন মালিয়া

    পার্থ ভৌমিক

    এই তালিকায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নাম হলো ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব)। ৮ জুন বিজেপির ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী শিবিরের মিটিংয়ে দেবের উপস্থিতির খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার জল্পনা উড়িয়ে তার ঠিক পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক শেষে দেব দাবি করেছিলেন, লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের পাশে তিনি নেই। তিনি বলেন,‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ভালোবাসা সারা জীবন থাকবে। যত দিন বেঁচে থাকব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি। তৃণমূলের সাংসদ হয়ে এসেছি। আমারও দায়িত্ব মানুষের স্বপ্নপূরণ করা। তবে নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না।’ তবে দেব নতুন তৃণমূল বলতে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনি স্পষ্ট করেনি। এর পরেই এ দিন সামনে আসা ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের পাঠানো চিঠিতে দেখা গেল তাঁর স্বাক্ষরও।

    গত লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে ২৯টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। তার মধ্যে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হাজি নুরুল ইসলাম মারা গিয়েছেন। বাকি ২৮ জনের মধ্যে ১৯ জনই পৃথক ব্লক হতে চেয়ে স্বাক্ষর করেছেন। ফলে হাতে রইল নয় সাংসদ। তার মধ্যেও অনেকের গলার সুরই এখন বেসুরো। তাই শীঘ্রই তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ধার ও ভার বাড়তে চলেছে বলে অনুমান।

    তবে লোকসভার পাটিগণিতের ভিত্তিতে এই ১৯ সংখ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলত্যাগী আইনের ফাঁদ এড়াতে দরকার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন। সেই ম্যাজিক নম্বর ইতিমধ্যেই ছুঁয়ে ফেলেছে তৃণমূলে রেবেল সাংসদরা। তাঁদের দাবি হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সামনে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেছিলেন, ‘আমরা জনাদেশ মেনে নিয়েছি এবং বিশ্বাস করি যে আমাদের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথচলা এনডিএ-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সেই কারণেই লোকসভার স্পিকারকে জানানো হয়েছে যে আমরা এনডিএ-র অংশ হতে চাই।’ অতএব লোকসভায় তৃণমূলের ভাঙা ঘর ইতিমধ্যেই ছেড়েছেন কারা, তা স্পষ্ট এই চিঠির স্বাক্ষরেই।

  • Link to this news (এই সময়)