মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৈরি দিঘার জগন্নাথ ধামের নাম পরিবর্তন হয়েছে কয়েক দিন আগেই। ‘ধাম’ শব্দ মুছে পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। এ বার বিগত তৃণমূল জমানার আরও এক স্মৃতি মোছা হলো দিঘায়। ওল্ড দিঘার গত কয়েক বছর ধরে ‘উন্নয়নের প্রতীক’ হিসেবে চিহ্নিত বিশ্ব বাংলার লোগো মোছারও কাজ শুরু হয়েছে।
মমতার জমানায় বিতর্ককে সঙ্গী করেই রাজ্যে চালু হয়েছিল ‘বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড’ লোগো। সব সরকারি চিঠির মাথায় বিশ্ববাংলার ‘ব’ নকশায় বৃত্তাকার সেই লোগো থাকত। নানা জায়গায় এই রকম গ্লোব-কাঠামোও তৈরি হয়। বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পর থেকেই তা সরানো কাজ শুরু করেছে নতুন বিজেপি সরকার। সেই মতো পুরনো দিঘার ১ নম্বর গেটের সামনে থাকা অতিকায় বিশ্ব বাংলা গ্লোবটিও শুক্রবার সকালে সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ইচ্ছা মতোই দিঘাকে সুন্দর করে সাজানোর কাজ হয়েছিল এক সময়ে। তারই অঙ্গ হিসেবে পুরনো দিঘায় একটি পার্ক তৈরি করে সেখানে বসানো হয়েছিল বিশ্ব বাংলার লোগো। চারপাশও সাজানো হয়। রাতে বিশ্ব বাংলার লোগোয় নানা রঙের আলোর ছটায় পুরনো দিঘার ওই এলাকা মোহময় হয়ে ওঠে বলে পর্যটক থেকে স্থানীয় দোকানদারেরা সেই সময়ে দাবি করতেন। বিশ্ববাংলার ওই গ্লোব দিঘার সৌন্দর্যায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পর্যটকদের মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই ছবি। পর্যটকদের কাছে দিঘায় অন্যতম দেখার জিনিস হয়ে উঠেছিল ওই গ্লোব। দিঘায় বেড়াতে গিয়ে বিশ্ববাংলা উদ্যানে লোগোর সামনে দাঁড়িয়ে এক সময়ে ছবি-সেলফিও তুলেছেন পর্যটকেরা।
কাঁথি মহকুমাশাসক ধুমাল প্রতীক অশোক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশের পরে দিঘার পর্যটনকেন্দ্র থেকে বিশ্ব বাংলার লোগো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। আগামী দিনে রাজ্য সরকারের নতুন কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দেশিকা অনুসারে আবার সাজিয়ে তোলা হবে।’ দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন সরকার তাদের নতুন লোগো অশোক স্তম্ভ বানিয়েছে। আশা করি, সেই লোগো বসানো হবে। তবে যা হবে, তা ভালোই হবে।’