• সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের অনন্য নজির গড়ল এনটিপিসি
    বর্তমান | ১২ জুন ২০২৬
  • সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল ফরাক্কা এনটিপিসি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। একদিকে যেমন গার্লস এমপাওয়ারমেন্ট প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া ছাত্রীদের স্বাবলম্বী করে তোলার জোরালো প্রয়াস শুরু হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে চলতি অর্থবর্ষে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। শুধু তাই নয়, দূষণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে এনেছে কর্তৃপক্ষ। যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলের আন্ডারপাস, সৌরবাতি এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো সহ নানাবিধ সামাজিক কর্মে অংশ নিয়েছে ফরাক্কা এনটিপিসি।

    এই প্রসঙ্গে এনটিপিসির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর দেবদ্রত কর বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও, স্থানীয় এলাকার সামাজিক উন্নয়নকে আমরা সমান গুরুত্ব দিই। নারী সশক্তিকরণের অঙ্গ হিসেবেই প্রতিবছর এই ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আগামী দিনে তারা নিজেদের লক্ষ্য স্থির করে সমাজকে পথ দেখাতে পারে।
    বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরাক্কা এনটিপিসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংস্থার শীর্ষ কর্তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনের খতিয়ান তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর দেবব্রত কর, জেনারেল ম্যানেজার (ওএম) রাজশেখর পালা, এইচওএইচআর অলোককুমার রণবীর ও জিএম (অপারেশন) এ আর মোহান্তি। জানা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষে ফরাক্কার ছ’টি ইউনিট থেকে মোট ৯০৬১৮ মেগাওয়াট অর্থাৎ ৪৩২ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে চাহিদার ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এই কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি ২১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। যদিও বর্তমানে বিদ্যুৎতের চাহিদা কম থাকায় ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় ২২.৪ শতাংশ কম। পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে ইতিমধ্যেই এলাকায় কয়েক লক্ষ গাছ লাগানো হয়েছে। গঙ্গা নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ও মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের কথা ভেবে মাছের পোনা মাছ ছাড়া হয়। এলাকার দুঃস্থ মানুষদের বস্ত্র ও খাদ্যবণ্টন সহ যাতায়াতের সুবিধার্থে ফরাক্কায় একটি রেল আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।

    আরও জানা গিয়েছে, প্রায় মাস খানেক আগেই ফরাক্কার আরএল ইনস্টিটিউটে ১৩০ জন ছাত্রীকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সূচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের চারটি জেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে এই ছাত্রীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। টানা ২৮ দিনের এই আবাসিক কর্মশালায় ছাত্রীদের কেবল ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান বা ভাষা শিক্ষাই দেওয়া নয়, পাশাপাশি আত্মরক্ষা, যোগব্যায়াম, স্বাস্থ্যবিধি এবং জীবন শৈলী উন্নয়নের (লাইফ স্কিল) পাঠও দেওয়া হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)