• রাতে মাছভাজার নামে মহিলাদের ডাক দিতেন দেগঙ্গার ‘শাহজাহান’ রবিউল! তৃণমূল নেতার ১০ কোটির বাগানবাড়ি
    News18 বাংলা | ১২ জুন ২০২৬
  • দেগঙ্গার শাহজাহান, তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম। অভিযোগ, তিনি নাকি মাছ ভাজার নামে বাগান বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন মহিলাদের। তারপর চলত অত্যাচার। রাজ্যে পালাবদল হতেই এবার ‘ভয় আউট, ভরসা ইন।’ মুখ খুলছে দেগঙ্গা। পিঠে বানাতে শাহজাহানের ডাক, মাছ ভাজতে পড়ত রবিউলের ডাক !

    তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম। ঠিক যেন দেগঙ্গার শেখ শাহজাহান। রবিউলের নামে অভিযোগ, তিনি নাকি মাছ ভাজার নাম করে মহিলাদের ডেকে পাঠাতেন নিজের বাগানবাড়িতে। অভিযোগ, সেখানেই মহিলাদের উপর অত্যাচার চালাতেন রবিউল এবং তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা।

    দেগঙ্গার ‘শাহজাহান’:

    তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলাম দেগঙ্গার দাপুটে নেতা ৷ তৃণমূল পরিচালিত দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন ৷ বন ও ভূমি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন ৷ এই রবিউল আবার হাড়োয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শেখ রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ৷

    আরও পড়ুন– রাশিফল ১২ জুন, ২০২৬: দেখে নিন আপনার আজকের দিন নিয়ে কী জানাচ্ছেন জ্যোতিষী চিরাগ দারুওয়ালা

    সন্দেশখালির ত্রাস শেখ শাহজাহানের কীর্তি এখনও সবার স্মৃতিতে তাজা। তৃণমূল আমলে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা। পিঠে বানানোর নাম করে মহিলাদের পার্টি অফিসে ডেকে পাঠিয়ে অত্যাচার চালাতেন তিনি। তৃণমূলের শাহজাহান এখন হাজতে। এবার উত্তর ২৪ পরগনারই আরেক শাহজাহানের খোঁজ। আগেরজন সন্দেশখালির। ইনি দেগঙ্গার। রাত হলে দু’জনেই বসাতেন ফূর্তির আসর। সেখানে ডেকে পাঠানো হতো মহিলাদের। একজনের পছন্দ পিঠে। অন্যজনের মাছভাজা।

    দেগঙ্গার এক বাসিন্দা রাজু আলি মণ্ডলের কথায়, ‘‘এখানে বাগান বাড়ি করেছে। রাতে মাছের প্রোগ্রাম, মদের প্রোগ্রাম করে। মদের আসর বসে। রান্নাবান্না করতে হবে বলে ডেকে নিয়ে আসে। এখান থেকে মাছ ধরে বলে ভাজা কর খাব। জোর জবরদস্তি লোকের বউকে তুলে নিয়ে আসে। এনে এসব খাওয়ায়। কে করে? পঞ্চায়েত সমিতির মেম্বার। কিছু প্রভাবশালী নেতার হাত ধরে রেখে দিয়েছিল। আমাদের অভিযোগের কোনও কাজ হয়নি ৷’’

    কীর্তিমান রবিউলের উত্থানের কাহিনিও চমকে দেওয়ার মতো ৷ আগে দিনমজুরির কাজ করতেন ৷ ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর রবিউলেরও দিনবদল ৷ তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রবিউল ঘাসফুলে ৷ তোলাবাজি, মাটিপাচার, লুটপাট, সরকারি টাকা আত্মসাতের মতো অভিযোগ রয়েছে তাঁর নামে ৷ দেগঙ্গার হাসিয়ায় নাকি সাম্রাজ্য রয়েছে রবিউলের।

    আরও পড়ুন– বোকারোর রঞ্জন শর্মা ভিন্ডি চাষ করেই দারুণ সফল! ১৭ হাজার খরচ করে ৪৫ দিনে ৮০ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন, সাফল্যের মন্ত্রও জানালেন

    স্থানীয় বাসিন্দা জুলফিকর মোল্লা জানান, ‘‘২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরে তেতুলিয়া মৌজা থেকে ১০০ বিঘা জমির মাটি কাটে জোরজবরদস্তিভাবে। সেই মাটি নিয়ে ভাটায় বিক্রি করত। এর বিরুদ্ধে আমরা জেলাশাসকের দফতরে আরও অনেক জায়গায় কমপ্লেন দিয়েছিলাম। নাম অন্য করে। কারণ ও জানলে তার পরিস্থিতি খারাপ হবে ৷’’

    দেগঙ্গার হাসিয়াতেই রবিউল ইসলামের তিন-তিনটে বাড়ি। একাধিক জমি। রবিউল ইসলামের প্রাসাদ দেখলে যে কেউ চমকে যাবে। পুকুরপাড়ে প্রায় একশো বিঘা জমির উপর দোতলা বাগানবাড়ি। কয়েকহাজার গাছ। অভিযোগ, বেশিরভাগই নাকি সরকারি। পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার সুযোগে সরকারি প্রকল্পের গাছ নিজের বাগানে বসাতেন রবিউল। এমনই অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। এখানেই প্রায় ১০ কোটির সম্পত্তি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাত হলেই এই বাগানবাড়িতে বসত ফূর্তির আসর। মাছ ভাজার নাম করে ডেকে আনা হোতো মহিলাদের। তারপরে অত্যাচার। মধুচক্র চালানোরও অভিযোগ রয়েছে রবিউলের বিরুদ্ধে। এতদিন আতঙ্কে মুখ খুলতে পারেননি কেউ। রাজ্যে পালাবদল হতেই ভয় আউট-ভরসা ইন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘তৃণমূল আসার পরে মাটির ব্যবসা শুরু করল। জোর করে লোকের জমি থেকে মাটি কেটে নিত। মানুষ ভয়ে আতঙ্কে কোনও কথা বলতে পারেনি। যা করেছে মেনে নিতে হয়েছে ৷’’

    তোলাবাজি-লুটপাট-মারধর। তৃণমূল আমলে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দেগঙ্গা থানায় একের পর এক অভিযোগ। কিন্তু, কোনও পদক্ষেপই করেনি পুলিশ। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই রবিউল বেপাত্তা। শেষ পর্যন্ত বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালাতে গিয়ে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)