• উত্তরকন্যায় শিল্প-বাণিজ্য মহলের সঙ্গে বৈঠক অর্থমন্ত্রীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জুন ২০২৬
  • রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হওয়ার কথা আগামী ২২ জুন। তার আগে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলের মতামত জানতে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রাক-বাজেট বৈঠক করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠক করার জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে উত্তরবঙ্গের শিল্প ও বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

    এদিনের বৈঠকে ফোসিন, টি বোর্ড, ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স-সহ একাধিক শিল্প ও বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ডোর-স্টেপ গভর্নেন্স বা দুয়ারে প্রশাসনিক পরিষেবার উপরে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আইসিসি-র উত্তরবঙ্গ শাখার চেয়ারম্যান হর্ষ বরেলিয়া জানিয়েছেন, জিএসটি ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি দার্জিলিং চায়ের ঐতিহ্য রক্ষা এবং শিল্প স্থাপনে বিশেষ সুযোগ-সুবিধার দাবি জানানো হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি চা শিল্পের সমস্যাও উঠে আসে বৈঠকে। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ প্যাকেজের দাবি জানানো হয়। চা বাগানের লিজ সমস্যা এবং ভর্তুকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ধাপে ধাপে চা শিল্পের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে মালদহের বিখ্যাত আম শিল্প ও তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকেও বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এবার মানুষের মতামত ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই বাজেট তৈরি করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘এই প্রথম মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাজেট তৈরি হচ্ছে। আগে বাজেট তৈরি হত অনেকটা ট্রেডমিলের উপর দৌড়ানোর মতো। সমস্ত গোষ্ঠী ও মানুষের পরামর্শ শোনা আমাদের লক্ষ্য। এই বিষয়টিকেই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবার।’ এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন খাতে তৃণমূল জমানায় করা কাজের সমালোচনা করে তাঁর কটাক্ষ,’ উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা কী পাচ্ছি সেটাই দেখার বিষয়।’

    শিল্পমহলের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘সব সমস্যার সমাধান হয়তো রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে আমরা প্রতিটি দাবি ও প্রস্তাব মন দিয়ে শুনেছি। ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলের সমস্যার কথা শুনে তার সমাধানের পথ খোঁজা হবে। আগে যে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বিবাদের পরিবেশ ছিল তা কাটিয়ে এবার উন্নয়নের জন্য সমন্বয় বজায় রাখা হবে।’

    উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল শিলিগুড়িতে একটি জিএসটি এপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন। বর্তমানে জিএসটি সংক্রান্ত কোনও জটিলতা দেখা দিলে ব্যবসায়ীদের কলকাতায় যেতে হয়। এই সমস্যার সমাধানে আসন্ন বাজেটে শিলিগুড়িতে জিএসটি ট্রাইব্যুনাল তৈরির প্রস্তাব আনার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি ব্যবসাবান্ধব সরকার। শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশ হলে রাজ্যের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী দিনে তার প্রতিফলন বাজেটেও দেখা যাবে।’

    কলকাতার পর উত্তরবঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও আগামী দিনে দুর্গাপুরেও একই ধরনের প্রাক-বাজেট আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এখন শিল্পমহলের নজর আসন্ন বাজেটের দিকে, যেখানে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও শিল্পোন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)