উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পার্থ কর্মকার
eTV Bharat | ১২ জুন ২০২৬
কলকাতা, 11 জুন: উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদ থেকে অবশেষে ইস্তফা দিলেন পার্থ কর্মকার। বৃহস্পতিবার তিনি স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের এক মাসেরও বেশি সময় পর তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। পার্থ কর্মকার জানান, এরপর সরকার যে দায়িত্ব দেবে, সেটাই তিনি পালন করবেন।
এদিনই বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মনোনীত পদাধিকারীদের সরে দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, "কলেজ পরিচালন সমিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতিতে থাকা অনেকেই ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন।" যাঁরা এখনও পদে রয়েছেন, তাঁদেরও স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ দিন তৎকালীন তৃণমূল সরকার সংসদের সভাপতি পদে পরিবর্তন আনে। সেই সময়ের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে সরিয়ে পার্থ কর্মকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা প্রক্রিয়া তখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। প্র্যাকটিক্যাল-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব বাকি থাকায় সেই সময় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল।
এরপর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পূর্বতন সরকারের মনোনীত বিভিন্ন পদাধিকারীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের পর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, স্কুল সার্ভিস কমিশন-সহ একাধিক সংস্থার চেয়ারম্যান ও সভাপতিরা পদত্যাগ করলেও পার্থ কর্মকার দায়িত্বে বহাল ছিলেন। কারণ হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ এবং সংসদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের বিষয়টি সামনে আসে।
পার্থ কর্মকারের নেতৃত্বেই এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়। ফলপ্রকাশের পরও তিনি প্রায় এক মাস সংসদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসে।
এর আগে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকেও সরে যেতে হয়েছিল প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলে মনোনীত ব্যক্তিদের সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তবে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা প্রশাসনের কাজেও। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালন সমিতি এবং কর্মসমিতি ভেঙে দেওয়ার ফলে অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ। যদিও শিক্ষা দফতরের দাবি, দ্রুত নতুন সদস্য নিয়োগ করে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম চালু করা হবে।