বাঁশবাগানে হামলা, প্রাতঃকৃত্য করতে বেরিয়ে আর ঘর ফেরা হল না বৃদ্ধের! জঙ্গলমহলে আতঙ্ক
News18 বাংলা | ১২ জুন ২০২৬
ঝাড়গ্রামে ফের হাতির হানা এবং আরও এক মৃত্যু। শুক্রবার সকালে জেলার খড়গপুর বন বিভাগের অন্তর্গত নয়াগ্রাম থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামে হাতির হামলায় প্রাণ হারালেন এক বৃদ্ধ। বন দফতর ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম কাঙ্গালী নায়েক (৬৫)। এই নিয়ে গত দু’মাসে হাতির হামলায় মৃত্যু হল একাধিকজনের। হাতির হানায় একের পর এক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে জঙ্গলমহল জুড়ে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে একটি হাতি সাঁকরাইলের দিক থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে নয়াগ্রামের রামচন্দ্রপুর এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেই সময় বাড়ির পাশের একটি বাঁশবাগানে প্রাতঃকৃত্য সারতে গিয়ে আচমকাই হাতির সামনে পড়ে যান ওই বৃদ্ধ। শুঁড়ে তুলে তাঁকে মাটিতে আছাড় মারে দাঁতালটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। খবর পেয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যান বন দফতরের কর্মীরা।
রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা সুভাষ বেরা বলেন, “সারা বছরই হাতির উপদ্রব লেগে রয়েছে। হাতির হানায় ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। বন দফতরকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে, না হলে আগামী দিনে হাতির হামলায় আরও গ্রামবাসীর মৃত্যু হবে।” এই পরিস্থিতিতে প্রবল আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এপ্রিল মাস থেকে ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডব অব্যাহত। গত রবিবারই ঝাড়গ্রাম থানার শিমুলডাঙায় কাজু বাগানে বীজ তুলতে গিয়ে হাতির হামলায় মৃত্যু হয় প্রণবপল্লীর বাসিন্দা, মৌসুমি মল্লিক (৩২) নামে এক গৃহবধূর। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম রেঞ্জ অফিসে তাঁর স্বামীর হাতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো এবং ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ। উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামও। বন দফতর জানিয়েছে, শুক্রবারের ঘটনায় মৃতের পরিবারকেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে তাতে সাধারণ মানুষের মনে কোনও স্বস্তি ফিরছে না।