• দিল্লিতে তৃণমূলের ভাঙনের এপিসেন্টার ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনই, কীভাবে হল অপারেশন লোটাস?
    আজ তক | ১২ জুন ২০২৬
  • নয়া দিল্লির মোতিলাল মোতিলাল নেহেরু মার্গ এখন বঙ্গ রাজনীতির এপিসেন্টারে পরিণত হয়েছে। ভাবছেন এখানে কে থাকে? তাহলে শুনুন, এখানেই থাকেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব। মোতিলাল নেহেরু মার্গেই তাঁর বাসভবন। আর এই জায়গাটাই বর্তমানে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের এপিসেন্টার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

    আসলে বিধানসভা ভোটে হারের পর তৃণমূলের ভাঙন থামছে না। ইতিমধ্যেই ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন। আর সেই সব সাংসদেরা ভূপেন্দ্র যাদবের এই বাসভবনেই 'গোপন' বৈঠক করেছেন বলে খবর। 

    প্রসঙ্গত, সোমবারই ইন্ডিয়া ব্লকের মিটিং করতে দিল্লি এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঠিক সেই সময়ই তাঁর নাকের ডগায় তাঁরই দলের সাংসদরা বৈঠক করলেন ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে। তাঁরা এখানে বসেই নিজেদের মতিগতি ঠিক করে ফেললেন বলে খবর সূত্রের। 

    দিল্লির আকাশে খবর, রাজ্যসভায় সুখেন্দুশেখর রায় থেকে শুরু করে লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, এই সকল সাংসদের মতিগতি বদলের নেপথ্যে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির যোগাযোগ রয়েছে। আর এমনটা দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সাংসদ কীর্তি আজাদ। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেই 'রাজনীতির খেলা' চলল? 
     তৃণমূলের বিদ্রোহীদের মূলে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি
    মাথায় রাখতে হবে, বিজেপিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি শুধু মন্ত্রীই নন, বরং দলের অন্দরে চাণক্য হিসেবেও পরিচিত। যে কোনও সমস্যা সমাধানে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। 

    প্রথম ছবিতে দেখা যায়, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতেই ১৪ সাংসদ উপস্থিত রয়েছেন। সেখানে কাকলিকেও দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যসভায় পদত্যাগী সাংসদ শুখেন্দু শেখরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে খবর। এছাড়া বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ভূপেন্দ্র স্বয়ং সেখানে হাজির ছিলেন। আর এই ছবি সামনে আসার পরই খবর রটে যায় যে তৃণমূলে ভাঙন ধরছে। 

    এই সকল বিদ্রোহী সাংসদেরা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দুপুরের খাবার খান। তবে তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়, সেটা অজানাই থেকে গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের ভিতরে যে ভাঙন ঘটেছে, সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর আবার সায়নী ঘোষ, মালা রায় এবং মিতালি বাগ ১০ জুন ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে যান বলে খবর। এই সময় শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। 

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমুলের প্রতীকে জেতা ১৯ জন বিদ্রোহী লোকসভার সাংসদই তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বলে খবর। সেই কারণেই কীর্তি আজাদ ভূপেন্দ্র যাদবকে টার্গেট করছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল ভেঙে অপারেশন লোটাস চালাচ্ছে বিজেপি। 

    কেন ভূপেন্দ্র যাদব আলোচনায়? 
    মাথায় রাখতে হবে, তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা এই বাড়িতে বারবার গিয়েছেন। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই হাজির হয়েছেন। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে কেন এই গুরু দায়িত্ব পেলেন ভূপেন্দ্র? আসলে বাংলার ইলেকশন ইনচার্জ ছিলেন তিনি। তাই ভূপেন্দ্র বাংলাকে খুব কাছাকাছি দেখেছেন। তিনি তৃণমূলের সাংসদদেরও ভাল করে চেনেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী তৃণমূলের সাংসদরাও একটা প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলেন। আর সেই জায়গাতেই এগিয়ে এসেছেন ভূপেন্দ্র। তিনি মোটের উপর ভাঙিয়ে ফেলেছেন তৃণমূল। আর তিনি সাফল্য পেলে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এনডিএ-এর ক্ষমতা অবশ্যই বাড়বে। 

     
  • Link to this news (আজ তক)