বর্ষার গতিবিধি কী? সন্ধের দিকে ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা
আজ তক | ১২ জুন ২০২৬
বাংলায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এখন অনেকটাই সক্রিয়। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কলকাতার আবহাওয়াতেও। জুনের শুরুতে যে তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আর্দ্রতায় নাজেহাল হতে হচ্ছিল শহরবাসীকে, তার থেকে এবার কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, শুক্রবার কলকাতায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়াও হতে পারে। শুক্রবারের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করেছে এবং আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যে রাজ্যের বাকি অংশেও বর্ষা ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, পূর্ব ভারতজুড়ে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এবং বাংলাদেশের উপকূল ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের জেরে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। এর ফলেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কলকাতায় আগামী কয়েকদিন আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে। মাঝে মাঝে বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে। এতে দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমবে।
দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া।
বর্ষার সক্রিয়তার প্রভাব ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে বৃষ্টির পরিসংখ্যানে। গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও মালদহে ৬৬ মিলিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে। বর্ধমানে রেকর্ড হয়েছে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে যথাক্রমে ৩২ ও ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, সপ্তাহান্তে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টি কিছুটা বিক্ষিপ্ত হলেও বর্ষার আবহ বজায় থাকবে।