এবার বর্ষায় কলকাতার এই ১২ এলাকার জল দ্রুত নামবে? বাড়তি পাম্প বসাচ্ছে পুরসভা
আজ তক | ১২ জুন ২০২৬
রাজ্যে বর্ষা আসতে আর বেশি দেরি নেই। আর বর্ষা মানেই কলকাতাবাসীর অন্যতম বড় উদ্বেগ জলজমা। ভারী বৃষ্টির পর শহরের রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যাওয়ার পুরনো সমস্যা এড়াতে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরবোর্ড ভেঙে গিয়ে বর্তমানে প্রশাসকের হাতেই পুরসভার দায়িত্ব। ফলে বর্ষার মরশুমে শহরকে জলজমা-মুক্ত রাখা তাঁর কাছে প্রথম বড় পরীক্ষাও বটে। প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রবল বৃষ্টির পরেও যাতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পুর কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বর্ষাকালে নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে জলজমা বা নিকাশি সমস্যার কারণে ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশের পর থেকেই পুর প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডের বর্ষাকালীন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে নিকাশি, জঞ্জাল অপসারণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন পুর-প্রশাসক। শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার বেহালার শরৎ সদনে পূর্ব ও পশ্চিম বেহালার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলজমা প্রতিরোধ ও নিকাশি ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শহরের যেসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির পর সবচেয়ে বেশি জল জমে, সেগুলিকে ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ঠনঠনিয়া, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, তপসিয়া, তিলজলা, পার্ক স্ট্রিট, ভবানীপুর, চেতলা, গল্ফ গার্ডেন, নাকতলা এবং বেহালার একাধিক এলাকা।
এইসব এলাকায় দ্রুত জল নিষ্কাশনের জন্য অতিরিক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেনেজ পাম্প বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পাম্প ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হবে। শুধু জলজমা নয়, বর্ষাকালে ডেঙ্গির প্রকোপ রোধেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা বাড়ি ও ফাঁকা জমি চিহ্নিত করে সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও শহরের প্রধান খাল এবং ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনগুলির সংযোগপথ যাতে পলি বা আবর্জনায় আটকে না যায়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সেচ দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে পুরসভার নিকাশি বিভাগ।
পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পর যত দ্রুত সম্ভব শহরের রাস্তাঘাট থেকে জল সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রস্তুতি এবং সমন্বয় পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। বর্ষার সময়ে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাতে বিশেষ কন্ট্রোল রুমও সক্রিয় থাকবে।