• রাজ্যের লাইব্রেরি থেকে সরছে 'এপাং ওপাং ঝপাং', পুরো কাহিনি জানুন
    আজ তক | ১২ জুন ২০২৬
  • এপাং ওপাং ঝপাং। এই ধরনের বই রাজ্য সরকার পোষিত সমস্ত গ্রন্থাগারে থাকবে না। জানিয়ে দিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, যে সমস্ত বই পড়লে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার বিকাশ ঘটবে, সেগুলিই গ্রন্থাগারে থাকবে। অপ্রয়োজনীয় বই সরিয়ে ফেলা হবে। সোজা কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই থাকবে না। 
      
    bangla.aajtak.in-কে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন,'জ্ঞানার্জনের জন্য গ্রন্থাগারে যান মানুষ। যে বই পড়লে জ্ঞানার্জন সম্ভব, সেগুলিই থাকবে। এপাং ওপাং ঝপাং পাঠ্যপুস্তক সরিয়ে দেওয়া হবে'। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই থাকবে না? গ্রন্থাগারমন্ত্রী জানান,'যে সমস্ত পাঠ্যপুস্তক পড়লে শিশুমনের বিকাশ ঘটে না, তা গ্রন্থাগার রেখে জায়গা নষ্ট করব না। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম ও বিবেকানন্দের বই থাকবে। শিবাজি, রানাপ্রতাপের জীবনী থাকবে গ্রন্থাগারে'।   

    ২০২৫ সালের জুনে রাজ্যের স্কুলগুলির গ্রন্থাগারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৫১৫টি বইয়ের তালিকায় প্রায় ৯০টি বই ছিল মমতার লেখা। সেজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রতিটি স্কুলের জন্য ১ লক্ষ টাকা।

    'এপাং ওপাং ঝপাং'। রাজ্য রাজনীতিতে বহু চর্চিত এই শব্দবন্ধ। শিশুদের জন্য একটি এনার্জি ড্রিংকস কোম্পানির বিজ্ঞাপনে এটি 'জিঙ্গল' হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।  বাংলায় এর আভিধানিক অর্থ নেই। কাছাকাছি অর্থ, এদিক-ওদিক দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু 'এপাং ওপাং ঝপাং' বেশি জনপ্রিয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ছড়া হিসেবে। এই শব্দবন্ধ দিয়ে মমতাকে একাধিকবার আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতারা। এর মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

    ২০২২ সালে বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ‘কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্য দেওয়া হয়েছিল ওই পুরস্কার। তখনও 'এপাং ওপাং ঝপাং' কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল তৃণমূল নেত্রীকে। সাহিত্যের ভাষায়, এই ধরনের কবিতাকে বলা হয় 'Nonsense Poem' বা  'অর্থহীন কবিতা'। অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছিলেন, 'পিং পং পিং পং কালিমপং। ডিং ডং কালিমপং'।
  • Link to this news (আজ তক)