এ বার দুর্গাপুজো অনুদান বন্ধ? শুভেন্দু ঠিক যা জানালেন...
আজ তক | ১২ জুন ২০২৬
বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব মানেই শারদোৎসব। প্রতিবছর দুর্গাপুজো উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো কমিটিকে বিপুল অঙ্কের সরকারি অনুদান দিত তৃণমূল সরকার। গত বছর সেই অনুদানের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল। কলকাতার বড় পুজো থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন নামী পুজো কমিটি, সকলের কাছেই এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যেত, যাতে উৎসবের আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ করা যায়।
তবে ৪ মে-র রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এবার কি দুর্গাপুজোর অনুদান মিলবে? নাকি বদলে যাবে দীর্ঘদিনের সেই সরকারি নীতি?
শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। যাঁদের এই সামান্য সরকারি অর্থের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। তবে যেসব পুজো কমিটি আর্থিক কারণে পুজো আয়োজন করতে সমস্যায় পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে।”
অন্যদিকে বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যে দুর্গাপুজোর জাঁকজমকে কোনও খামতি রাখা হবে না। তবে ক্লাবগুলিকে সরাসরি সরকারি অনুদান দেওয়ার প্রথা বন্ধ করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্ব সহকারে ভাবনাচিন্তা করছে। দলের একাংশের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পুজো কমিটিগুলির জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হতো, তা অন্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা গেলে রাজ্যের আরও উপকার হতো।
সেই কারণেই চলতি বছর কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুজো কমিটিকে সরকারি অনুদান না দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
অনুদান নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলেও দুর্গাপুজোর গুরুত্ব কমছে না বলেই দাবি বিজেপির। সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোকে বিশেষভাবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর এটাই হবে প্রথম দুর্গাপুজো। সেই কারণেই উৎসবকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন পুজো কমিটি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
এছাড়া দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি প্রচার করার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য নেতৃত্বের ইচ্ছা, প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে বাংলার শারদোৎসবকে দেশ-বিদেশে নতুন মাত্রায় তুলে ধরা হোক। এমনকি অষ্টমীর অঞ্জলিতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সূত্রের দাবি। এ সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব ইতিমধ্যেই দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।