• ‘পশ্চিমবঙ্গে টাটাকে নিয়ে আসব’, অতীত নন্দীগ্রামের কথা তুলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জুন ২০২৬
  • রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্প, কর্মসংস্থানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই লক্ষ্যে বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন তিনি। একাধিকবার নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ঘটাতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী। গত সরকারের আমলে সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠী চলে গিয়েছিল। আবার বামফ্রন্টের জমানায় নন্দীগ্রামে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। এখন সেই পরিবেশ নেই। তাই আবার টাটাদের এই রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    এদিকে শিল্পমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই তাপস রায় বলেছিলেন, টাটাদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে তিনি নিজে কথা বলতে যাবেন। শুক্রবার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গুরে যেখানে টাটা কারখানা করতে চেয়েছিল সেখানকার মাটির প্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে। মিশে রয়েছে রড, সিমেন্ট। এখন আমার কাছে বহু প্রকল্প এসে গিয়েছে। আমি প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে টিম বানিয়ে দিয়েছি। সব ঠিক করে পশ্চিমবঙ্গে আবার টাটাকে ফিরিয়ে আনব।’

    অন্যদিকে শিল্প গড়ে তুলতে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নন্দীগ্রামে গুলি চলেছিল। তাতে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। এবার শিল্প গড়ে তুলতে গেলে গুলি না চালিয়েও যে কাজ করা হয় সেটা দেখবে সকলে বলেও দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পের বিস্তার ঘটিয়ে কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আগামিদিনে শিল্প গড়তে রাজ্যে জমি বাধা হবে না। বহু শিল্প প্রকল্পের কথা হয়ে আছে। এবার আত্মনির্ভর হবে পশ্চিমবঙ্গ। টাটাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনব। সিঙ্গুরের জমি নষ্ট হয়েছে আগের সরকারের আমলে। কিন্তু এবার সেটা হবে না। গত সরকার শুধু জমি অধিগ্রহণ করেছে কোনও কাজ করেনি। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও শিল্প আনা যায়। এবার সেভাবে শিল্প আসবে এই রাজ্যে। রাজ্যে কেউ জমি নিয়ে রেখে দিয়েছেন কিনা সেটা দেখা হবে।’

    তাছাড়া রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম টার্নিং পয়েন্ট ছিল। যদিও শিল্প বিরোধী তকমা সেঁটে গিয়েছিল। তখন যে বিবৃতি টাটাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল সেটা শিল্পমহলে প্রভাব ফেলেছিল। তাই গত সরকারের শিল্পনীতিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগের সরকারের মতো মিথ্যা এবং ফটোসেশনে বিশ্বাসী নই। আমি কাজে বিশ্বাসী। তবে এখনই তাড়াহুড়ো করা হবে না। যে শিল্প সংস্থাগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা লুঠ করেছে অথবা কাজের রেকর্ড ভাল না তাদের কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)