চোরা শিকারি সম্পর্কিত ডাটাবেস নষ্ট করতেই আলিপুরের সরকারি দপ্তরে আগুন!
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ জুন ২০২৬
চোরা শিকারি সম্পর্কিত ডাটাবেস নষ্ট করতেই আলিপুরের সরকারি দপ্তরে আগুন! ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার পেরোনোর পর এমনই রিপোর্ট দিচ্ছেন তদন্তকারীরা।দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের কাছে এমনটাই জানানো হয়েছে বলে খবর। একই রিপোর্ট যাচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের কাছেও।
বলা হচ্ছে ওই ভবনের যে তলায় আগুন লেগেছিল সেখানেই একটি আলমারিতে রাখা হয়েছিল বাঘের এবং হরিণের চামড়া, সিং। সবই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে খবর।
চোরা কারবারিদের গ্রেপ্তার করে এই সব জিনিস উদ্ধার করা হয়েছিল। এমনকি ‘ ল সেল’-এর কাগজ পত্র ও কম্পিউটারে রাখা ডাটাবেস সবই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ওই ঘটনায়। এ ছাড়াও একাধিক দামী জিনিস ও নথি নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে খবর। যা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ স্বয়ং বনমন্ত্রীর কপালে। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন ‘কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিসংখ্যান বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।‘
‘ল সেল’-এ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার বিভিন্ন চোরাশিকারির ডেটাবেস রাখা হত। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদেরও এখানে আনা হত এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণ করা হত। আলিপুর জেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলায় থাকা এই দপ্তর থেকেই কার্যত গোটা জেলার বনবিভাগের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালিত হত।
বুধবার সকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সেই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ৯টায় আলিপুরের নবপ্রশাসন ভবনে আগুন লাগে। আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিস। এখান থেকেই জেলার সমস্ত রেঞ্জ অফিস নিয়ন্ত্রিত হত। পাশাপাশি সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্প সম্পর্কিত বহু ঐতিহাসিক নথিও এখানে সংরক্ষিত ছিল।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৩ সালে ব্যাঘ্র প্রকল্প ঘোষণার আগের সময় থেকে শুরু করে সুন্দরবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি এখানে সংরক্ষিত ছিল। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডে শুধু প্রশাসনিক নথিই নয়, হারিয়ে গিয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বহু তথ্যও।
এক বনদপ্তর আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এখানে ৬টি বাঘের চামড়া, ৪টি হরিণের চামড়া, হরিণ ও শূকরের দাঁতের অংশ এবং কুমিরের দেহাংশ সংরক্ষিত ছিল। পাশাপাশি ব্রিটিশ আমল থেকে সংরক্ষিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার জমির পুরনো মানচিত্রও আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে’।