উল্কার গতিতে উত্থান, বালি-কয়লা পাচার করে বিরাট সাম্রাজ্যের মালিক! অবশেষে জালে যুধিষ্ঠির
প্রতিদিন | ১২ জুন ২০২৬
বাম আমলে বেআইনি কাজে হাতেখড়ি, তৃণমূল আমলে উল্কার গতিতে উত্থান। অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক! অভিযোগ থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি কেউ। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই গ্রেপ্তার পাণ্ডবেশ্বরের বালি পাচারের ‘সম্রাট’ যুধিষ্ঠির ঘোষ (Judhisthir Ghosh)।
খোলামুখ খনি থেকে কয়লা তুলে পাচার, অজয় নদের বুক চিরে বালি পাচার- এসব অনৈতিক কাজে দীর্ঘদিন আগেই নাম জড়িয়েছিল যুধিষ্ঠির ঘোষের। অল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন তিনি। স্থানীয়দের একাংশের কাছে তিনি পরিচিত ‘কয়লা-বালি সাম্রাজ্যের সম্রাট’ হিসেবেই। অভিযোগ, এলাকার একাধিক খোলা খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা তুলে তা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারে যুক্ত ছিলেন যুধিষ্ঠির। অজয় নদের বিভিন্ন ঘাট থেকে বালি উত্তোলন করতেন তিনি। সেই কারবারকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে নিজের সাম্রাজ্য তৈরি করেছিলেন। পাণ্ডবেশ্বর-সহ সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, জমি, দামি গাড়ি এবং বিপুল অর্থের মালিক হয়ে উঠেছেন তিনি।
তাঁর সম্পত্তি নিয়ে নানা মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কয়লা ও বালি পাচার (Sand Scam) চক্রের তদন্তে নেমে এর আগেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির নথি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। শুধু অবৈধ কারবারই নয়, তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য এবং গালিগালাজের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়লা ও বালি কারবারকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে যে প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল, যুধিষ্ঠির ঘোষ ছিলেন তার অন্যতম মুখ। এলাকায় তার প্রভাব এতটাই ছিল যে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলেও অভিযোগ। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সেই যুধিষ্ঠির ঘোষ।