৫ বছর ধরে পড়শির ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র টাকা ছাত্রের অ্যাকাউন্টে! তারপর…
প্রতিদিন | ১২ জুন ২০২৬
এবার মালদহে ‘লক্ষ্মী’ ছেলের হদিশ! একবার, দু’-বার নয়, একটানা পাঁচ বছর ধরে কলেজ ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পের টাকা। সেই টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে যথারীতি খরচ করতেন ওই কলেজ ছাত্র। যার নামে বরাদ্দ টাকা ঢুকেছে সেই পড়শি মহিলা বৃহস্পতিবার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি এলাকার বাসিন্দাদের নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।
মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের হরদমনগর বাসিন্দা মহিলা ঠিক কী অভিযোগ করেছেন? মিতালি দাস জানান, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র আবেদন করলেও তিনি কোনওদিন টাকা পাননি। রাজ্যে সরকার বদল হতেই মহিলা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। জানতে পারেন পাঁচ বছর ধরেই তাঁর টাকা ঢুকছে পাশের বেলশুর গ্রামের বাসিন্দা মোবারক হোসেনের অ্যাকাউন্টে। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। বিপাকে পড়ে এখন বেশ অনুতপ্ত সেই ‘লক্ষ্মী’ ছেলে। সমস্ত টাকা সরকারকে ফেরত দেওয়ার আর্জি নিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেছেন তিনি। অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ তাঁকে খুঁজছে।
হরদমনগরের বাসিন্দা মিতালি দাস জানান, ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করেন তিনি। প্রশাসন সমস্ত নথিপত্র যাচাই করে তাঁকে যোগ্য উপভোক্তা হিসাবে বিবেচিত করে। কিন্তু তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। তা ভোগ করছেন বেলশুরের বাসিন্দা ওই কলেজ পড়ুয়া। দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থাকতেন মিতালি। কেন টাকা ঢুকছে না বুঝতে পারেননি। এবার ভোট দেওয়ার জন্য ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি এসে জানতে পারেন তাঁর টাকা ঢুকছে অন্যের অ্যাকাউন্টে। তারপরই বিডিও অফিসে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। এদিন ঘটনার তদন্ত চেয়ে এবং দোষীর শাস্তির দাবিতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছন। যদিও ওই কলেজ পড়ুয়া মোবারক হোসেনের দাবি, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে টাকা ঢুকেছে। এখন ঘটনা জানার পর তিনি সমস্ত টাকা প্রশাসনকে ফিরিয়ে দিতে চান। যদিও পিছনে বড়সড় চক্র কাজ করেছে বলেই বাসিন্দাদের অভিযোগ। এই বেনিয়মের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।