ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী গেরুয়া ঝড়ে কার্যত তছনছ ঘাসফুল শিবির। প্রথমবার বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আবার কেন্দ্রেও এখন বিজেপি সরকার। তার ফলে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য হাতে হাত মিলিয়ে বাংলার উন্নয়নে শামিল। তাতে আদতে উপকৃত হচ্ছে রাজ্যবাসী। এদিকে আবার আগামী ২২ জুন বাজেট পেশ। তাতেও বেশ কিছু চমক থাকবে বলেই ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।
কেন্দ্রের সাফল্যের এক যুগ পূর্তিতে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সরকারের মাত্র এক মাস হয়েছে। আর এর মধ্যেই বাংলার সাধারণ মানুষ ডবল ইঞ্জিন সরকারের আসল স্বাদ পেয়ে গিয়েছেন। চলতি অর্থবর্ষ, যা আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে শেষ হবে, তার মধ্যে রাজ্যের সিংহভাগ মানুষই এই ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাজের প্রচারক হয়ে যাবেন। তখন আমাদের আর নতুন করে নিজেদের কাজের ঢাক পিটিয়ে প্রচার করতে হবে না, সাধারণ মানুষই আমাদের হয়ে কথা বলবেন।”
শুভেন্দু আরও বলেন, “রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই ১ কোটিরও বেশি মানুষকে নিখরচায় চিকিৎসার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের আওতায় যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ ও থমকে থাকা ‘জনগণনা’র কাজ – যা যা আগের সরকার স্রেফ রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যে আটকে রেখে দিয়েছিল, আমাদের সরকার তা পুরোদমে চালু করে দিয়েছে।” এরপরই আসে বাজেট প্রসঙ্গ। সাধারণ মানুষকে আশা জাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আরও বলেন, “আগামী ২২ তারিখ বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ হতে চলেছে। সেই বাজেটে আপনারা স্পষ্ট বুঝতে পারবেন, এই নতুন সরকার কীভাবে সমস্ত অর্থনৈতিক দিক অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলে পশ্চিমবঙ্গকে এক নতুন উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” বলে রাখা ভালো, সামনেই ভোট থাকায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তবর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছিল তৎকালীন তৃণমূল। সেখানে যুবসাথীর মতো বেশ কিছু বড় ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখন মসনদে নতুন দল, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুর্সিতে বসার পরই একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যা আমজনতার মন যে কেড়েছে তা বলাই বাহুল্য। আগামী ২২ জুন বাজেটে রাজ্যবাসীকে কী উপহার দেয় শুভেন্দু সরকার, সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার মানুষ।