ছেলেকে শারীরিক অত্যাচারের পর খুন করেছেন পুত্রবধূ! সিঁথি (Sinthi) থানায় অভিযোগ দায়ের বৃদ্ধের। তাঁর আরও দাবি, ছেলে মারা যাওয়ার পর তাঁকে না জানিয়েই সৎকার করা হয়েছে। খুন ও প্রমাণ লোপাটের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিঁথি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম শুভাশিস চক্রবর্তী। বয়স ৪৩ বছর। তিনি প্রায় ৭ বছর ধরে সিঁথি থানা এলাকার সাঁতরাপাড়া লেন এলাকায় স্ত্রী দেবিকা সাহার সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন। একটি ওষুধ সংস্থার মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে কাজ করতেন। তবে কোভিডকালে চাকরি চলে যায় শুভাশিসের। তারপর থেকে ভুগছিলেন একাধিক শারীরিক সমস্যায়। স্নায়ু সংক্রান্ত সমস্যা প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। নিজে থেকে ওষুধ খাচ্ছিলেন। শেষ ১০-১৫দিন যাবৎ তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রচণ্ড খারাপ হয়। পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক চিকিৎসককে ডেকে আনেন। চিকিৎসক জানান, রক্তচাপ কমে গিয়েছে শুভাশিসের। ওষুধ দেওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু তিনি বাড়িতেই ছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, জুন মাসের ১০ তারিখ সকালে খাবার খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন শুভাশিস। পরে তাঁর স্ত্রী দেবিকা ডাকলেও সাড়া দেননি। ফের স্থানীয় চিকিৎসককে ডেকে আনেন পরিবারের সদস্যরা। সেই চিকিৎসক শুভাশিসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযোগ, দেবিকা স্বামীর পরিবারকে না জানিয়ে রতনবাবু ঘাটে, শুভাশিসের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। শেষকৃত্যের সময় স্থানীয় ফার্মেসি ‘স্নেহা মেডিক্যালে’র কয়েকজন দেবিকাকে সাহায্য করেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১)ও ২৩৮(এ) ধারা অর্থাৎ খুন ও প্রমাণ লোপাটের মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে। কথা বলা হচ্ছে পরিবারে সদস্য, স্থানীয়দের সঙ্গে। যে ঘরে ওই ব্যক্তি থাকতেন সেই ঘরের ফরেন্সিক পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।