কাল যে বর্তমান ছিল, এখন সে-ই অতীত। সরকারের পালাবদলে বদলে গিয়েছে নবান্নের ছবি। প্রথম তলার ১০১ নম্বর ঘরের দখল হারিয়েছেন জেলফেরত পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সে-ই ঘর এখন স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামার। পূজার্চনা করে ‘কুনজর’ কাটিয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে যাত্রা শুরু করলেন তিনি।
বুধবার মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন হয়। এরপর শুক্রবার প্রথমবার নবান্নে বরাদ্দ ঘর পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। শোনেন এই ঘরেই একসময় বসতেন নিয়োগ দুর্নীতিতে শ্রীঘরে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুনেই যেন ‘আঁতকে’ ওঠেন। প্রতিমন্ত্রী সাফ জানান, এই ঘরের আগে ‘শুদ্ধিকরণে’র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গঙ্গাজল ঢেলে, পুজো করে তবে এই ঘরে বসবেন বলেই জানান। সেইমতো এই ঘরের পুজো করান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নতুন কিছু শুভ কাজ করার আগে পুজো করা রীতি। বিধায়ক হওয়ার পর নিজের অফিসেও পুজো করেছিলাম।”
শুধু বিশাল লামাই নন। তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী নবান্নে তাঁর বরাদ্দ ঘরে ঢুকেই চেয়ার বদলের ‘আবদার’ করেন। কারণ, ওই ঘরে পর্যটন দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বসতেন। ইতিমধ্যে গায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এফআইআর রুজুও হয়েছে। পুরনো কিছুর ‘ছোঁয়াচ’ যাতে না লাগে তাই ওই ঘরে ঢুকেই পূর্ণিমা চেয়ার বদলের দাবি করেন। বলেন, “যিনি আগে ছিলেন, অনেক কীর্তি ঘটিয়েছেন। বাংলাকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে অনেক কিছু করেছেন। তাই ওই চেয়ারে বসব না।” এরপর মন্ত্রীর চেয়ার বদল করা হয়।