পেল্লায় বিল্ডিংয়ে পরিষেবার নামে আর কাঁচকলা নয়, এবার বেলদা সুপার স্পেশালিটিতে মিলবে উন্নত চিকিৎসা
News18 বাংলা | ১২ জুন ২০২৬
ঝাঁ চকচকে পেল্লায় বিল্ডিং। অথচ পরিষেবা বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। জটিল রোগ বা অস্ত্রোপচারের মত কোনও পরিকাঠামো না থাকায় রোগীদের এলেই অন্যত্র রেফার করে দেওয়া হত। দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা ও দুর্ভোগ কাটিয়ে অবশেষে আশার আলো দেখছে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। জানা গিয়েছে, এবার থেকে গলব্লাডার-সহ অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচার এই হাসপাতালেই হবে। রোগীদের সুবিধার্থে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নির্দেশিকা জারি করে একাধিক চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হয়েছে।
হাসপাতালের এই ভোলবদলের নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরির বিশেষ উদ্যোগ। গ্রামীণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ মেটাতে তিনি গত এক মাসে চারবার স্বাস্থ্য ভবনে দরবার করেন। তাঁর সেই তৎপরতাতেই অবশেষে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বুধবার জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয় থেকে হাসপাতালটির পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে জোড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, বেলদায় চিকিৎসক সঙ্কট মেটাতে একযোগে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাঠানো হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই মাস তাঁরা এখানকার দায়িত্ব সামলাবেন। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সবং থেকে অ্যানাস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সোমনাথ মাইতি, খড়গপুর থেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মধুসূদন মাইতি, শালবনী থেকে সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় এবং ঘাটাল থেকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিমান বর্মনকে বেলদায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, বেলদার নিজস্ব স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেবজিৎ রায়কে খড়গপুর থেকে পুনরায় অবিলম্বে বেলদাতেই যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকের পাশাপাশি এক্স-রে, অপারেশন থিয়েটার এবং ফিজিওথেরাপি বিভাগের কর্মী সঙ্কট মেটাতেও বড় পদক্ষেপ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে বেলদায় আসছেন রেডিওগ্রাফির মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট সৌমেন রায় ও তপন কুমার দাস এবং ওটি-র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দেবাশিস সাহা ও সুমন কল্যাণ চৌধুরী। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন ফিজিওথেরাপিস্ট ঝাড়েশ্বর চাউল্যা। কাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সোনাখালি থেকে টিনা রায়কে খড়গপুরে এবং খড়গপুরের গৌতম মাসান্তকে ডেবরায় বদলি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের হয়রানি শেষে অবশেষে ঘরের কাছেই উন্নততর চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার আশায় এখন স্বস্তিতে বেলদাবাসী।