শিলিগুড়ি থেকে বুলেট ট্রেন, শিল্পে গতি! উত্তরকন্যার বৈঠকে উত্তরবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার বার্তা
News18 বাংলা | ১২ জুন ২০২৬
রাজ্য বাজেট ঘোষণার আগে উত্তরবঙ্গের ব্যবসা ও শিল্পমহলের মনের কথা শুনতে এবার উত্তরকন্যাকেই বেছে নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের মিনি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। বাজেটের আগে এই সরাসরি সংলাপকে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগের অভাব, পরিবহন সংক্রান্ত সমস্যা এবং শিল্পোন্নয়নের গতি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও সবসময় সেই বিষয়গুলি সরকারের নীতি নির্ধারণী স্তরে পৌঁছয় না। এদিনের বৈঠক সেই দূরত্ব অনেকটাই কমিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একাংশের মতে, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত, করিডরভিত্তিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং কৃষিনির্ভর শিল্পকে কেন্দ্র করে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ এলে এই অঞ্চল পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলেও মতো তাঁদের।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশিত প্রামাণিক এবং পরিবহন ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। আলোচনায় শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। ব্যবসায়ী মহলের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গে শিল্পের প্রসার ঘটলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও উন্নয়নের গতি থামবে না। তিনি ইঙ্গিত দেন, আসন্ন বাজেটে শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে শিলিগুড়িকে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে এই অঞ্চল আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। উত্তরকন্যার এই বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং উত্তরবঙ্গের শিল্প-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।