বর্ষা এলেই প্লাবিত হয় হাওড়া জেলার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা। রূপনারায়ণ নদ এবং মুণ্ডেশ্বরী নদী জলের তলায় চলে যায় ঘরবাড়ি, চাষের জমি। চলতি বছরের বর্ষার আগেই প্লাবন ঠেকাতে নড়েচড়ে বসল সেচ দপ্তর। হাওড়া জেলার দীপাঞ্চলের নদী বাঁধের ভাঙন রোধে রূপনারায়ণ নদের তীরে ১২ কিলোমিটার কংক্রিটের পাঁচিল তৈরি করবে সেচ দপ্তর। সূত্রের খবর, এই পাঁচিল নির্মান করতে ব্যয় হবে ১২৭ কোটি টাকা।
সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, কংক্রিটের পাঁচিল নির্মাণের পাশাপাশি বাঁধ শক্তিশালীও করা হবে। নির্মাণ কাজ শুরুর আগে দীপাঞ্চলের নদী বাঁধ পরিদর্শন করলেন আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অমিত সামন্ত। বিধায়কের আশা এই কাজ শেষ হলে দ্বীপাঞ্চলের বন্যার আশঙ্কা অনেকটা কমবে। হাওড়ার দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা এবং ঘোড়াবেড়িয়া-চিতনান গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দীপাঞ্চলের ভূখণ্ডটি রূপনারায়ণ এবং মুণ্ডেশ্বরী নদী দিয়ে বেষ্টিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বন্যায় জলের তোড়ে ভাঙন দেখা যায় বাঁধে। দ্বীপাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ ছিল রূপনারায়ণ এবং মুণ্ডেশ্বরী নদীর তীরে সে ভাবে কোন রিং বাঁধ না থাকার ফলে জল আটকানোর কোনও ব্যবস্থা থাকে না। এই অবস্থায় মেজর ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে এখানে গোটা বাঁধ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয় সেচ দপ্তর। সেই অনুযায়ী উত্তর ভাটোরার পানশিউলি থেকে শুরু করে বাকসী এলাকা পর্যন্ত নদী বাঁধ সংস্কার করা হবে এবং সেখানে কংক্রিটের পাঁচিল দেওয়া হবে।
আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত শুক্রবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘১২ কিলোমিটার নদী বাঁধ পাঁচিল দিয়ে কংক্রিটের পাঁচিল নির্মাণ করা হবে। এর জন্য ব্যয় করা হচ্ছে ১২৭ কোটি টাকা। শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হবে।’ প্রসঙ্গত, বছর পাঁচেক আগেয় হাওড়া-সহ ৫ টি জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণে মেজর ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় এই কাজ শুরু হয়েছিল। দামোদর নদের পূর্ব দিকের বাঁধ শক্তিশালী করা হয়েছে এবং এই রকম কংক্রিটের পাঁচিল দেওয়া হয়েছে। এ বার সেই রকম পাঁচিল দেওয়া হবে রূপনারায়ণ নদের বাঁধে। অন্য দিকে, বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় খুশি দ্বীপাঞ্চলের বাসিন্দারা।