আবেদন করেছিলেন ৮ বছর আগে। তার পরে সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। পাকা বাড়ি বানিয়েছেন নার্গিস বেগম। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ঢুকেছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। শুক্রবার কর্নাটক থেকে নন্দীগ্রামে এসে সেই টাকা ফেরত দিলেন নার্গিসের পুত্র রাজিবুল ইসলাম খান। নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বিডিওর হাতে প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেন তিনি। হাসি মুখে বললেন, ‘সবারই তাই করা উচিত। সততার সঙ্গে বাঁচাই আমাদের জীবনের মূল মন্ত্র।’
প্রায় আট বছর (২০১৮ সালে) আগে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আবেদন করেছিলেন নন্দীগ্রামের দাউদপুরের বাসিন্দা নার্গিস বেগম। সেই সময়ে মঞ্জুর হয়নি। তার উপরে কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েনে তহবিলের বরাদ্দ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এর পরেই আবেদনকারীদের আবাস যোজনায় (গ্রামীণ) বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে সেই টাকাই ঢুকেছে নার্গিসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
এই আট বছরে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে অনেক। নার্গিসের বড় ছেলে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পেয়েছেন। মোটা টাকা বেতন পান। ছোট ছেলে রাজিবুল ইসলাম ডাক্তারি পড়ছেন। বিআর আম্বেদকর মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে। নিজের উপার্জনের টাকাতেই বাড়ি বানিয়েছেন তাঁরা। আবাস যোজনার টাকার দরকার নেই তাঁদের। তাই সেই টাকাই ফেরত দিতেই কর্নাটক থেকে নন্দীগ্রামে আসেন রাজিবুল। তার পরে বিডিও অফিসে গিয়ে সেই টাকা ফেরত দেন।
টাকা ফেরত দিয়ে সততার সঙ্গে জীবনযাপনের বার্তা দিয়েছেন রাজিবুল। তিনি বলেন, ‘দেশে আইনকানুন আছে। সেটা সবাইকেই মানতে হবে। তাই টাকা ফেরত দিলাম।’ আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাজিবুলের কথায়, ‘যাঁদের পাকা বাড়ি রয়েছে, কিন্তু বাড়ি তৈরির প্রকল্পে টাকা পেয়েছেন, তাঁদের বলব, ফিরিয়ে দিন। টাকা নেবেন না।’ এই নিয়ে নন্দীগ্রাম - ১ ব্লকের বিডিও সঞ্জয় সিকদারকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।