আজকাল ওয়েবডেস্কঃ ২০০৬ সিঙ্গুর আন্দোলন। হুগলির সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর 'ন্যানো' গাড়ির কারখানা নির্মাণ নিয়ে বামেদের সঙ্গে বিরোধীদের রাজনৈতিক সংঘর্ষ চরমে ওঠে। কৃষি জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা যায়। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের পরই রাজ্য রাজনীতির পটপরিবর্তন হয়। বিরোধী দলনেতা হিসাবে রতন টাটার মৃত্যুর পর থেকেই টাটা গোষ্ঠীকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন শুভেন্দু। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকেও ফের একই কথা বলেন শুভেন্দু।
এ দিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে শুভেন্দু বলেন, "এ বার রাজ্যে টাটাকে আনবো আমরা। সিঙ্গুরের সেই জমি সরকারের হাতে নেই। বিগত সরকার তার মালিকানা ওখানকার কৃষকদের দিয়ে দিয়েছে। যাঁরা ওই জমিতে না সর্ষের চাষ করছেন, না আলু ফলাতে পারছেন, না ধান চাষ করতে পারছেন না। এমনকি মাছ চাষ করতে পারছেন না। ওই মাটির সঙ্গে টাটার রড-সিমেন্ট সবকিছু মিশে রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "এবার পাঁচবারের অভিজ্ঞ বিধায়ক তাপস রায় শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। আগের সরকারের মতো আমরা কোনও মিথ্যাচার বা 'ফটো সেশন' করতে চাই না। ইতিমধ্যেই বহু বড় শিল্প প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করা হয়েছে, যারা প্রাথমিক ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ করছে। বড়, মাঝারি ও ছোট, এই তিন স্তরের (ত্রিফলা) শিল্পের মেলবন্ধন ঘটানো হবে পশ্চিমবঙ্গে।"
রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন সরকারের রূপরেখা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ এবার কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পবান্ধব হবে। ১৯৮৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মেনেই সরকার জমি কিনছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বেকারত্ব থেকে মুক্তি চান। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও যে শিল্প আনা যায়, নতুন সরকার সেটাই প্রমাণ করে দেখাবে।"
পাশাপাশি, তিনি সতর্ক করেন, বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "বাণিজ্য সম্মেলনের নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গোষ্ঠীকে রাজকোষ থেকে ৬৩৫ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিলেন। এই বিপুল টাকার অপচয় আমরা ছেড়ে দেব না। এর সম্পূর্ণ তদন্ত হবে।"