বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? জল্পনা ছড়াতেই অনুব্রত যা বললেন
আজকাল | ১৩ জুন ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি বরাবরই সোজাসাপ্টা। রাজনৈতিক জীবনে কাউকে খুব বেশি তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। গত কয়েক বছরে মমতা ব্যানার্জির পাশে থেকেছেন। এবার তিনিই বেসুরো? বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কার্যত দীর্ঘদিন মৌনব্রত নিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। অবশেষে মুখ খুললেন, আর তা অত্যন্ত জোরালোভাবেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানও জানালেন। জানালেন, দলের সিম্বল যেদিকে, তিনিও সেদিকে।
শুক্রবার বোলপুরে, সাংবাদিকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুব্রত মণ্ডল একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি, দলের সাংসদ-বিধায়কদের ভূমিকা, আইপ্যাকের প্রভাব এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'একুশ বা তার আগের নির্বাচন গুলিতে আইপ্যাকের কোনও প্রভাব আমি দেখিনি। বরং সেই সময় আমি নিজের সংগঠনিক দক্ষতার উপর ভরসা করেই কাজ করেছি।' তিনি আরও বলেন, 'প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে আমার রীতিমতো ঝগড়া হয়েছিল। বিহার থেকে এসে কেউ আমাদের দল পরিচালনা শেখাবে, আমি মেনে নিতে পারিনি। জেলা সভাপতি থাকাকালীন প্রশান্ত কিশোরের একাধিক পরামর্শ আমি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।'
সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, 'তিহাড় জেল থেকে ফিরে আসার পরই আমার জেলা সভাপতির পদ কেড়ে নেওয়া হয়। আগে আমি জেলার সংগঠন পরিচালনা করতাম, বিধায়ক, ব্লক সভাপতি এবং অঞ্চল সভাপতিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। কিন্তু পরে আমাকে শুধুমাত্র কোর কমিটির সদস্য এবং পরবর্তীতে কনভেনারের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে সংগঠনের উপর আমার আগের মতো প্রভাব আর ছিল না।'
মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'কেন আমার উপর থেকে আস্থা কমে গেল, তা আমি জানি না। কারণ সেই সময় আমি জেলে ছিলাম।' তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, 'আমি এখনও তৃণমূলেই আছি। যদিও সঙ্গে যোগ করেন, সম্মান পেলে তৃণমূল করব, সম্মান না পেলে করব না।'
বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় অনুব্রত মণ্ডলকে। উত্তরে তিনি বলেন, 'আমাকে বিজেপি ডাকেনি এবং ডাকার কারণও নেই। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।'
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আসে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। বর্তমানে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিভাজনের জল্পনা এবং সিম্বল নিয়ে বিতর্কের আবহে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'সিম্বল যেদিকে থাকবে, তৃণমূল সেখানেই থাকবে। সিম্বল তো দুটো হতে পারে না, একটা হবেই। এমনকী, অন্য কোনও গোষ্ঠীর হাতে সিম্বল চলে গেলেও সেই গোষ্ঠীকেই আমি তৃণমূল হিসেবে মেনে নেব।'