আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতাদের দিকে ডিম ছুঁড়ে ক্ষোভ উগরে দেওয়া যেন এখন এক নতুন ধারা হয়ে উঠেছে। আর ঠিক এই কারণেই, অভিযুক্তকে আমজনতার সেই 'ডিম-আক্রমণ' থেকে বাঁচাতে এবার এক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিল সিউড়ি থানার পুলিশ।
শুক্রবার সিউড়ি পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিঙ্কি দাসের স্বামী, তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা পবিত্র দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২১-২২ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা এবং এলাকায় একাধিক বড়সড় সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ তাঁকে জালে তোলে। কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় যখন তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হয়।
পবিত্র দাসের গ্রেপ্তারির খবর ছড়াতেই আদালত চত্বরে জমা হয় এক বিশাল ক্ষুব্ধ জনতা। ধৃত নেতার ওপর ডিম ছোঁড়ার জন্য তাঁরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে, সিউড়ি থানার পুলিশ এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে আদালত থেকে বের করার আগে অভিযুক্তের মাথায় পরিয়ে দেয় একটি হেলমেট! পুলিশি ঘেরাটোপ আর মাথায় হেলমেট- এই দুইয়ের জোরেই উত্তেজিত জনতার ডিমের আঘাত থেকে রক্ষা পান পবিত্র দাস।
পুলিশের এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত সাধারণ মানুষ। আদালতে উপস্থিত সুপ্রিয়া ফুলমালী সহ একাধিক মহিলার অভিযোগ, "স্বয়ং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও বোধহয় এত সুরক্ষা দেওয়া হয়নি, যা এই অভিযুক্তকে দেওয়া হয়েছে।" তাঁদের দাবি, তাঁরা ডিম ছোঁড়ার জন্য আসলেও আইসি সাহেব আগেই তা কেড়ে নেন এবং মহিলা পুলিশ দিয়ে সাধারণ মানুষকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি আইনজীবী মুক্তাব হোসেন জানান, ধৃত পবিত্র দাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৫, ৩৭৭ ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ নম্বর ধারা সহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা এই ধারাবাহিক অভিযানে পবিত্র দাসের গ্রেপ্তারি ও পুলিশের এই অভিনব পদক্ষেপ এখন সিউড়ি জুড়ে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।