আজকাল ওয়েবডেস্ক: আদালতের কড়া নির্দেশে লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকালীন বিশৃঙ্খলা বা বহুল চর্চিত 'মেসি কাণ্ড' নিয়ে নতুন করে কোমর বেঁধে নামল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলায় স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনার। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আগামী ৪ঠা আগস্টের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আর এই আইনি জটিলতার মাঝেই আগামী সপ্তাহে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তলব করতে চলেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি এখনও পর্যন্ত তাঁর পাসপোর্ট জমা করেননি। যদিও হাইকোর্টের তরফে অরূপ বিশ্বাসকে আগামী ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে তাঁকে পুলিশি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। যদি তিনি অসহযোগিতা করেন, তবে পুলিশ তৎক্ষণাৎ তা আদালতকে জানাবে।
এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তে নেমে বিধাননগর পুলিশ ইতিপূর্বেই একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। এবার সেই সমস্ত পুরনো ফাইল খুঁজে বের করে, অন্যান্যদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে— যা সামনে রেখেই আগামী সপ্তাহে অরূপ বিশ্বাসকে জেরা করা হবে। অভিযোগ উঠেছে, মেসির ভারত সফরের সময় মাঠে যে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা মূলত অরূপ বিশ্বাসের কারণেই হয়েছিল।
মেসি যখন মাঠে উপস্থিত ছিলেন, তখন উদ্যোক্তাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে নিজের একাধিক ঘনিষ্ঠ ফটোগ্রাফার, টলিউডের কিছু ব্যক্তিত্ব এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের মেসির সাথে ছবি তোলার জন্য জোর করে মাঠে প্রবেশ করিয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এমনকি মেসি ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত যখন মাঠে এইভাবে নিয়ম ভেঙে লোক নামানো এবং ছবি তোলার প্রতিবাদ করেছিলেন, তখন অরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে তাঁকে রীতিমতো হুমকি বা শাসানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
আপাতত পুলিশের নজরে রয়েছেন অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সেই সমস্ত ফটোগ্রাফাররা। নতুন করে তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁদের একটি নামের তালিকা তৈরি করেছে এবং তাঁদেরও খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাঠের ভেতরের সেই চরম বিশৃঙ্খলা এবং প্রভাব খাটানোর আসল সত্যিটা কী, তা জানতেই এবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে সমস্ত বয়ান মেলাতে চাইছে বিধাননগর পুলিশ।